মুরব্বি ছাউনি লাল লাঠি লাল ঘর এখন মডেল


প্রকাশিত: ০৪:২৭ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৬

মাদক, ইভটিজিং, ছিনতাই ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় দিনাজপুরে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং এলাকার শান্তি প্রতিষ্ঠায় গড়ে তোলা হয়েছে `মুরব্বি ছাউনি লাল লাঠি লাল ঘর`। এখন এটা অনেকের কাছে মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।  

মুরব্বি ছাউনি গঠনের আগে প্রকাশ্যে রামনগর এলাকায় মাদক সেবন, দিনদুপুরে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের ইভটিজিং করা হতো। এসব অপকর্ম ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে এলাকাকে মুক্ত করতে মদিনা মসজিদের পেশ ইমাম ও মুসল্লিদের নিয়ে আলহাজ সাদেক মিয়া পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং পরে পুলিশ ও র্যাবসহ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেন।

এরপর মাদকের ছোবল ও সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ৭ নভেম্বর রামনগরে গড়ে তোলা হয় মুরব্বি ছাউনি লাল লাঠি লালঘর।

মুরব্বি ছাউনি লাল লাঠি লালঘর উদ্বোধনের সময় সাবেক পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, কোতোয়ালি থানার ওসিসহ র্যাব এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী অরাজনৈতিক  সংগঠন।

Lal-Ghor

লাল লাঠি লালঘরের আওতাধীন রয়েছে নুরন্নবী জামে মসজিদ, মদিনা মসজিদসহ লেবুর মোড়ের প্রায় এক হাজার বাড়ি। পারিবারিক কলহ, ঝগড়া বিবাদ, পাওনা টাকা আদায়সহ বিভিন্ন বিষয়ে সমস্যা সমাধান করা হয় এখানে।

লাল লাঠি লাল ঘরের সদস্যরা সবাই ৪০ থেকে ৯০ বছরের প্রবীণ। এখানে কোনো যুবক সদস্য নেই। ২১ সদস্য বিশিষ্ট মুরব্বি ছাউনির একটি কমিটি এবং শক্তিশালী উপদেষ্টা মন্ডলীও রয়েছে। এর সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ শতাধিক।

সংগঠনের সদস্য রায়েছেন- ইমাম, প্রভাষক, ডাক্তার, পুলিশ, শিক্ষক, ব্যাংকার, দিনমজুর, ভ্যান চালকসহ সর্বস্তরের মানুষ। এখানে যারা সদস্য তারা সবাই কারো পিতা বা অভিভাবক।

এ সামাজিক অপরাধ নির্মূল কার্যক্রমে স্থানীয় এমপি হুইপ ইকবালুর রহিম, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনসহ সকল স্তরের মানুষ রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক ব্যক্তিরা সাহায্য সহযোগিতা করছেন বলে জানান আলহাজ মো. সাদেক মিয়া।

মুরব্বি ছাউনি লাল লাঠি লাল ঘর এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ মো. সাদেক মিয়া বলেন, আমরা সমাজে বাস করি। এ সমাজকে সুন্দর রাখার দায়িত্ব আমাদের। আমাদের সন্তানরা মাদক সেবন করে সমাজকে অস্থির করে তুলবে আর আমরা পিতা হয়ে দেখবো।

Lal
 
মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করতে না পারলে অবশ্যই আমরা ব্যর্থ পিতা বা অভিভাবক। তাই সন্তান তথা যুব সমাজকে রক্ষা করতে গড়ে তোলা হয় মুরব্বি ছাউনি লাল লাঠি লাল ঘর।

আলহাজ সাদেক মিয়া আরো জানান, রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত কয়েকটি দলে বিভক্ত হয়ে এলাকার মুরব্বিরা পালাক্রমে ডিউটি দেন তারা এক হাতে টর্চ লাইট অন্যহাতে লাল লাঠি এবং মুখে বাঁশি নিয়ে এলাকা চষে বেড়ান। কোনো স্থানে বা ঝোপের মধ্যে নির্জন স্থানে কেউ মাদক সেবন করছে কিনা বা চুরি, ছিনতাই বা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে কিনা তা তদারকি করেন।

ডিউটিরতদের হাতে ধরা পরলে প্রথমে তাকে উপদেশ দিয়ে অসামাজিক কাজ থেকে দূরে থাকার জন্য ভালোভাবে বোঝানো হয়। তার হাতে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। ২য় বার ধরা পড়লে তার অভিভাবককে তলব করা হয়। তৃতীয় বার ধরা পড়লে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এলাকায় এ শাসন থাকার ফলে শতকারা ৮০ ভাগ যুবক ভালো পথে ফিরে আসছে।

এই লাল লাঠি লাল ঘরের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাদের ঘরটি লাল, রেজুলেশান খাতা লাল, কলম লাল কালির, চেয়ার লাল, লাঠি লাল বাঁশি লাল এমনকি তাদের সাইনবোর্ডটিও লাল।

এসএস/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।