সাতক্ষীরায় নির্বাচনি প্রচারণা তুঙ্গে, প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার চারটি আসনে প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণা ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। জনসভা, সমাবেশ ও পথসভায় উন্নয়ন, সুশাসন, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার এবং অবকাঠামো উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনি মাঠে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে রাজনীতির উত্তাপ ছড়িয়েছে জেলার সর্বত্র।
সাতক্ষীরা-২ আসন: উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের বার্তা
সাতক্ষীরা সদর ও দেবহাটা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মো. আব্দুর রউফ বলেন, সাতক্ষীরার উন্নয়ন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন এবং নতুন বাংলাদেশ গড়তে ধানের শীষের বিকল্প নেই।
ডি.বি ইউনাইটেড হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় তিনি বলেন, ধানের শীষ এখন জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতীক। বৈষম্যহীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক শ্রমিক সমাবেশে বলেন, ইসলামী শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠা হলে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজ গড়া সম্ভব।
সাতক্ষীরা-৩ আসন: কৃষক–শ্রমিক ও সরকার গঠনের প্রত্যাশা
আশাশুনি–কালিগঞ্জ নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাশার কৃষক ও শ্রমিক সমাবেশে বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কৃষক ও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে আয়োজিত সমাবেশে তিনি বলেন, ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম হলে শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটবে।
একই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন বলেন, বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এরই মধ্যেই ২৪০টি আসন বিএনপির পক্ষে চলে গেছে এবং দলটি থ্রি-ফোর মেজরিটি নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।
তিনি জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার আলোকে দেশ পরিচালিত হবে এবং নির্বাচিত হলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হবে।

সাতক্ষীরা-১ : অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি
তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নে আয়োজিত জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, নির্বাচিত হলে পাইকগাছার কপিলমুনি ও তালার কানাইদিয়া এলাকার মানুষের যোগাযোগ সুবিধার জন্য কপোতাক্ষ নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি তালা থেকে খেশরা সড়কে টিআরএম বেইলি ব্রিজ পুনর্নির্মাণ করা হবে। তিনি খেশরা এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
নির্বাচনি পরিবেশ
জেলার বিভিন্ন জনসভায় হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে মাঠগুলো জনসমুদ্রে পরিণত হচ্ছে। ব্যানার, ফেস্টুন, স্লোগান ও প্রতীকের রঙে রঙিন হয়ে উঠছে সাতক্ষীরার রাজপথ। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচারণার গতি ও রাজনৈতিক উত্তাপ।
প্রশাসন কী বলছে?
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আকতার জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং সকল প্রার্থী, দলের কর্মী-সমর্থকদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারণা ও জনসভা‑সমাবেশে আইন মেনে চলা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আচরণবিধির সব শর্ত পালন নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসন সব স্তরে নজরদারি করছে। প্রশাসন, সেনাবাহীনি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একসঙ্গে কাজ করে সুষ্ঠু, ন্যায্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত করবে বলে তিনি জানান।
আচরণবিধি না মানলে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে, এমন নজিরও থাকতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। তিনি বলেন, আচরণবিধি না মানায় ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাতক্ষীরায় এবারের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে। ভোটারদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামী দিনের নেতৃত্ব।
আহসানুর রহমান রাজীব/এফএ/জেআইএম