আশাশুনিতে বাঁধ ভেঙে ২৪ গ্রাম প্লাবিত : দিশেহারা মানুষ
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় প্রবল জোয়ারের তোড়ে খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে ২৪টি গ্রাম। ভেসে গেছে হাজার হাজার মানুষের ঘরবাড়ি, মাছের ঘের, ফসলি জমি। দিশেহারা মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিচ্ছে উঁচু স্থানে। দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকট।
সরকারিভাবে কোনো পৃষ্ঠপোষকতা করা হচ্ছে না বলে জাগো নিউজের কাছে অভিযোগ করেন আশাশুনির শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল। 
তিনি অভিযোগ করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কিছু খালি বস্তা দেয়া ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি। শনিবার ভোরে কোলা এলাকায় প্রায় ৫০ হাত বাঁধ ভেঙে যায়। হাজার হাজার এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে চেষ্ট করেও ব্যর্থ হয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান পর্যন্ত শ্রীউলা ইউনিয়নের ২২টি গ্রাম। প্রতাপনগর ইউনিয়নের দুটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েকশ কোটির টাকার মৎস্য ঘের নষ্ট হয়ে গেছে। ভেসে গেছে ফসলি জমি। ১৪ হাজার মানুষের ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত। কেউ কেউ সাইক্লোন সেন্টারে, ওয়াপদা, স্কুলে ও বিভিন্ন উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।
কামারখালি গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন, ওয়াপদা যদি ব্লক সিস্টেম হতো তাহলে এতো ভাঙতো না আর আমরা এতো ক্ষতিগ্রস্ত হতাম না। এমন কোনো বছর নেই যে দুই একবার ভাঙে না। আমরা হাজার হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাই। বর্তমানে বউ ছেলে মেয়ে নিয়ে খুব বিপদে রয়েছি।
নদী ভাঙনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন জাগো নিউজকে জানান, আশাশুনির প্রতাপনগর ও শ্রীউলা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধগুলো ঝুকিপূর্ণ। যে ধরনের বাঁধ থাকার দরকার ছিল সে ধরনের বাঁধ সেখানে নেই। সরকারের কাছে প্রস্তাব রেখেছি এ বেড়িবাঁধগুলো সংস্কার করে যে ধরনের বাঁধ দেয়া প্রয়োজন সে ধরনের বাঁধ দেয়ার জন্য। 
পাশাপাশি ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে নির্দেশ দিয়েছি বাঁধটি সংস্কার করার জন্য। তাছাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বলা হয়েছে।
স্থানীয় কোলা গ্রামের পলাশ কর্মকার প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ত্রাণ নয় বাঁধটি স্থায়ীভাবে সংস্কার চাই। আমরা যেন এখানে বসবাস করতে পারি। এছাড়া বলার কিছু নেই।
আকরামুল ইসলাম/এসএস/পিআর