অবশেষে আশাশুনিতে আশার আলো
টানা পাঁচদিন পর সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধটি সংস্কার করছেন স্থানীয়রা। প্লাবিত ২৪টি গ্রামের ৩০ হাজার মানুষের মাঝে অবশেষে আশার আলো জাগলো। তবে ক্ষতি যা হবার তা হয়ে গেছে। ভেসে গেছে হাজার হাজার মানুষের মাছের ঘের, ফসলি জমি। ধসে গেছে ১৪ হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি।
এর আগে গত শনিবার ভোররাতে শ্রীউলা ইউনিয়নের কোলা এলাকায় খোলপেটুয়া নদীর প্রায় ৫০ হাত বাঁধ ভেঙে যায়। প্রবল বেগে পানি ঢুকতে থাকে লোকালয়ে। এতে শ্রীউলা ইউনিয়নে ২২টি ও প্রতাপনগর ইউনিয়নের দুটি গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়।
বাঁধ সংস্কারের জন্য সরকার বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু খালি বস্তা দিয়ে দায়মুক্ত হয়েছে। জাগো নিউজের কাছে এমন অভিযোগ করেন শ্রীউলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল।
তিনি বলেন, কয়েক হাজার গ্রামবাসীর অনেক পরিশ্রম আর চেষ্টার ফলে টানা পাঁচদিন পর বাঁধটি মোটামুটি সংস্কার করা গেছে। যেখানে বাঁধ ভেঙে গেছে সেখানে সংস্কার করা যায়নি। ভাঙা স্থান থেকে দূরে নতুনভাবে বাঁধ সৃষ্টি করা হয়েছে। বাঁধে এখনো কাজ করা হচ্ছে। তবে মানুষের ক্ষতি যা হবার তা হয়ে গেছে। কিন্তু প্লাবিত এলাকা থেকে পানি সরতে এখনো দুই বা তিনদিন লাগবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে মানুষের খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। পানি সরার পর পরবর্তী দুর্ভোগে পড়তে হবে মানুষকে। তাছাড়া এলাকার রাস্তাঘাটগুলো ভেঙে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, অধিকাংশ স্থানে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ। ঝুঁকিপূর্ণ এসব স্থানে এখনো পদক্ষেপ না নিলে যে কোনো সময় ভেঙে যেতে পারে।
তবে ভাঙনের বিষয়ে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন জাগো নিউজকে জানান, বাঁধটি সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
আকরামুল ইসলাম/এআরএ/এবিএস