মহাবিপদে প্রধান শিক্ষক
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার ৫৬নং খাজরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাহাজ্জাহান আলীকে নিয়ে চলছে তুলকালাম কাণ্ড। প্রথমে অপহরণ করে মারপিট। তারপর মামলা তুলে নিতে হুমকি ও ঘটনা নিয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন।
কিন্তু এত কিছুর পরও শেষ রক্ষা হচ্ছে না শিক্ষকের। খাজরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম তার তাণ্ডব অব্যাহত রেখেছেন। রোববার সকালে এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রামবাসীকে দিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঝাঁটা মিছিল ও মানববন্ধন করিয়েছেন তিনি।
খাজরা বাজারের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম জানান, গত ১৭ অক্টোবর সোমবার রাত ৯টার দিকে খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম মোবাইল ফোনে স্কুলের কমিটি পরিবর্তন করে চেয়ারম্যানের মনোনীত কমিটি করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ঘটনা সেখানে থেমে থাকেনি।
একপর্যায়ে চেয়ারম্যানের ক্যাডার বাহিনী পিরোজপুর গ্রামের ওমর আলী সরদারের ছেলে রিপন সরদার, খাজরা গ্রামের কাশেম সরদারের ছেলে নওয়াব আলী সরদার, মৃত শৈলেন্দ্র ঘোষের ছেলে অসীত বরণ ঘোষ, সাধন চন্দ্র ঘোষের ছেলে পংকজ ঘোষ ও দুর্গাপুর গ্রামের আছিরুদ্দিন গাজীর ছেলে লাভলু গাজীসহ বেশ কয়েকজন জোরপূর্বক শিক্ষক রাহাজ্জাহানকে চেয়ারম্যানের গদাইপুর বাড়িতে নিয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, চেয়ারম্যানের কথায় রাজি না হলে শিক্ষক রাহাজ্জান আলীকে মারপিট করে জোরপূর্বক সাদা কাগজে সই নেন চেয়ারম্যান ও স্কুলের চাবি ছিনিয়ে নেয়া হয়। রাত আনুমানিক ১টার দিকে পুলিশ শিক্ষককে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিমসহ ছয়জনের নাম উল্লেখপূর্বক আশাশুনি থানায় মামলা করা হয়। মামলা নং-১১ তারিখ : ১৮/১০/২০১৬ ইং।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাহাজ্জাহান আলী জাগো নিউজকে বলেন, মামলার পর চেয়ারম্যান ডালিমের অব্যাহত হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেছি। আমার জীবনটা এখন হুমকির মুখে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিক্ষক আরো বলেন, ভয়ে আমি তিনদিন ছুটি নিয়েছি। চেয়ারম্যানের কথামতো কাজ না করাই হলো আমার অপরাধ। এখন বলছে, আমি জামায়াত করি, দুর্নীতিবাজ। আমার বিরুদ্ধে ঝাঁটা মিছিল করিয়েছে চেয়ারম্যান। আমাকে আপনারা বাঁচান।
এ ব্যাপারে আশাশুনি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। চেয়ারম্যান ডালিমসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চেয়ারম্যান এখন পলাতক।
তবে খাজরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম বলেন, শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। যার পেরিপ্রেক্ষিতে এলাকাবাসী শিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও ঝাঁটা মিছিল করেছে। শিক্ষক রাহাজ্জাহান একজন দুর্নীতিবাজ।
এদিকে মানববন্ধনে শিক্ষককে জামায়াতকর্মী উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন খাজরা ইউপি সদস্য কবির হোসেন, শ্যাম্যাপদ ঘোষ, অসিত ঘোষ, হোসেন আলী ও মহিলা ইউপি সদস্য তহমিনা খাতুন।
আকরামুল ইসলাম/এফএ/পিআর