বিক্রেতা ছাড়াই চলছে সততা স্টোর


প্রকাশিত: ০৪:৪৯ এএম, ০১ নভেম্বর ২০১৬

‘সদা সত্য কথা বলিব, চুরি করিব না, চুরি করিলে আমরাই ঠকিবো’- এমন চেতনা মনে ধারণ করে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের স্বাবলম্বী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিক্রেতা ছাড়াই চলছে সততা স্টোর। বিভিন্ন পণ্যের মূল্যের নির্ধারিত চার্ট দেখেই পণ্য কিনছে শিক্ষার্থীরা।

স্বাবলম্বী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠত হলেও ৪১৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র পাঁচজন শিক্ষক। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলামের উদ্যোগে ২০১৫ সালের মাঝের দিকে অফিস ভবনের বারান্দায় সততা স্টোর শুরু করা হয়। প্রথমদিকে কিছুটা অনিয়ম হলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর পর এখন আর সমস্যা হয় না। সততা স্টোরের লভ্যাংশ দিয়ে স্কুলের কিছু উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরাও এতে কোনো অনিয়ম করে না বলে মনে করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সততা স্টোরের কাবিনেট থেকে খাতা-কলম, পেনসিল, খাবার পণ্যসহ বিভিন্ন জিনিস নিজেরাই নিয়ে নিচ্ছে। আর নির্দিষ্ট স্থানে টাকা রাখছে। সেখানে নেই কোনো বিক্রেতা।

এছাড়া স্কুলটির পরিবেশ সৌন্দর্যমণ্ডিত করতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নামাজের স্থান, কৃত্রিম মিনি চিড়িয়াখানা (আমাদের ভুবন), দেশ-জেলা ও উপজেলার মানচিত্র, জাতীয় পশু-পাখির মোরাল, মিনা-রাজু পার্ক, শহীদ মিনার, ফোয়ারা, এসো উড়তে শিখি পাখির মোরাল ও রিডিং কর্নার রয়েছে। এছাড়া পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে আলাদা ক্লাসের ব্যবস্থা।

Rajbari

সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টি শিক্ষার মানের পাশাপাশি পরিবেশ, নিয়ম-কানুন ও সাজানো-গোছানোর দিক দিয়েও দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের একটি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তন্নি, কালাম, হিমেল জানান, সততা স্টোরে কোনো বিক্রেতা নেই, ছকে দ্রব্যের দাম দেওয়া আছে, সে অনুযায়ী আমরা পণ্য কিনি। শিক্ষকরা ইচ্ছা করেই সেখানে কোনো দোকানি রাখেননি। কারণ তারা আমাদের সৎ মানুষ হিসেবে গড়তে চান। আগে বৃষ্টির দিনে অন্য দোকান থেকে ভিজে ভিজে খাতা-কলম, খাবার পণ্য কিনতে হতো। কিন্তু এখন আমরা অনেক সহজে সতাতা স্টোর থেকে তা পাচ্ছি।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ও নাঈমা আক্তার জানান, এ স্কুল নিয়ে প্রধান শিক্ষক অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করার চেষ্টা করেন। তার মধ্যে সততা স্টোর অন্যতম। স্কুলের শিক্ষার্থীরা রাস্তা পার হয়ে খাতা বা কলম কিনতে গেলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এ চিন্তা থেকেই প্রধান শিক্ষক এ সততা স্টোরটি তৈরি করেন।

স্বাবলম্বী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সততা স্টোরটি ২০১৫ সালের মাঝের দিকে স্থাপন করেছি। এটি করার কয়েকটি উদ্দেশ্য আছে। বাচ্চারা যেন শিশু বয়স থেকে ন্যায়, নীতি, আদর্শ ও সততার শিক্ষা নিয়ে মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকে, সততা স্টোরের মাধ্যমে সে শিক্ষাই দেয়া হয়।

ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন জানান, আমরা একটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী স্কুল ও প্রতিষ্ঠান করতে চাই। সে লক্ষ্যেই আমার ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সাজানোর চেষ্টা করছি। স্বাবলম্বী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তারই অংশ।

এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।