৬৭ দিন পর মায়ের কোলে ফিরল রবিউল


প্রকাশিত: ১১:৩৯ এএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৬

সাতক্ষীরার আশাশুনির বালাকাটি গ্রামের শোকর আলী গাজীর ছেলে রবিউল ইসলাম। শ্রম দিয়েই সংসার চলে তাদের। হঠাৎ একটি দুর্ঘটনায় তাদের সংসারে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। গত ১০ সেপ্টেম্বর কাজ করতে গিয়ে হঠাৎ বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়ে রবিউল।

শরীরের অর্ধেক অংশই ঝলসে যায়, ক্ষত হয় মাথায়। প্রথমে কালীগঞ্জ সদর হাসপাতাল এরপর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ সেখান থেকে ডাক্তাররা পাঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। এরই মধ্যে বাবার জমানো সব টাকা ছেলের চিকিৎসার পেছনে খরচ হয়ে যায়।

নিজের ১৫ কাঠা জমিও বিক্রি করেন। তখনো প্রয়োজন ছিল আরো টাকার। ছেলের ওষুধ কিনতে পারছিল না পরিবার। নিরূপায় হয়ে মা রোকেয়া বেগম ও বাবা শোকর আলী গাজী মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।

এমন সময় ‘টাকার অভাবে ওষুধ কিনতে পারছে না রবিউলের পরিবার’ শিরোনামে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি জেলা প্রশাসনের দৃষ্টিতে আসে।

জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন চিকিৎসার জন্য রবিউলের বাবা-মায়ের হাতে সহায়তার চেক তুলে দেন। সহায়তা দেয়া হয় জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও। সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন কালীগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি।

অবশেষে গত রোববার রবিউলের মাথায় সফল অস্ত্রোপচার করা হয়। পর্যবেক্ষণ শেষে মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট থেকে রবিউলকে ছাড়পত্র দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। প্রেসক্রিপশন দিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন, বাড়িতে নিয়ে ঠিকমত ওষুধ খেলে সুস্থ হয়ে যাবে রবিউল। অবশেষে টানা দুই মাস ৭ দিন পর বৃহস্পতিবার সকালে রবিউল তার মায়ের কোলে ফিরেছে। হাঁসি ফুটেছে পরিবারটির মুখে।

রবিউলের মা রোকেয়া বেগম সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জাগো নিউজকে বলেন, রবিউলের বাবাও প্রতিবন্ধী এক চোখে দেখতে পায় না। দুই মাস ৭ দিন পর নিজের ছেলেকে দেখলাম। ডিসি স্যারসহ যারা বিপদের সময় রবিউলের চিকিৎসার জন্য টাকা দিয়েছেন তাদের সকলের জন্য দোয়া করি।

বাবা শোকর আলী গাজী হাসি মুখে বলেন, সকলের দোয়া ও সহযোগিতায় রবিউল এখন অনেকটা সুস্থ। দোয়া করবেন যেন রবিউল সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে উঠে।

আকরামুল ইসলাম/এআরএ/এবিএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।