নিজের বিয়ে ঠেকিয়ে দিলো স্কুলছাত্রী


প্রকাশিত: ১১:৫০ এএম, ২১ নভেম্বর ২০১৬

টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে দিল কল্পনা শীল (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রী। সে বাসাইল পৌর শহরের পূর্বপাড়ার শ্রীভাষ চন্দ্র শীলের মেয়ে ও বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।
 
জানা যায়, সোমবার ওই ছাত্রীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ে উপলক্ষে সব প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু বাঁধ সাধে কল্পনা শীল নিজেই। ১৮ বছরের আগে বিয়ে করবে না বলে তার বাবা-মাকে জানায় সে। তবুও বাবা-মা ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজন কল্পনার বাধা উপেক্ষা করে সোমবার (২১ নভেম্বর) বিয়ের দিন ধার্য করেন।

এ খবর নিশ্চিত হয়ে রোববার (২০ নভেম্বর) ওই ছাত্রী ভোকেশনাল পরীক্ষা শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে দুই বান্ধবীকে নিয়ে হাজির হয়।

জোর করে বিয়ে দেয়ার বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) জানালে কল্পনার বাবা-মাকে ডেকে আনা হয়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই ছাত্রীর বাবা শ্রীভাষ চন্দ্র শীলকে ১ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৭ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে মেয়েকে ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেবে না মর্মে মুচলেকা দিয়ে কল্পনাকে বাড়িতে নিয়ে যান বাবা-মা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন, বাসাইল পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম প্রমুখ।

নিজের বাল্যবিয়ে ঠেকানো প্রসঙ্গে কল্পনা শীল বলে, বাল্য ও শিশুবিবাহের বিভিন্ন কুফল ও আইনের বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সচেতন হয়েই আমি প্রতিজ্ঞা করি ১৮ বছরের আগে বিয়ে করব না। তাই স্যারের শরণাপন্ন হয়েছি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, আমরা উপজেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মতবিনিময় করছি। মানুষ সচেতন হচ্ছে কল্পনা শীল তারই প্রমাণ।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।