জামালপুরে পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যু


প্রকাশিত: ০১:০৩ পিএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় পুলিশ হেফাজতে সোহেল রানা (৩০) নামের এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছেন তিনি। পুলিশের দাবি, মাদকসেবী আসামির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। সোহেল রানার বাড়ি উপজেলার ফুলকোচা ইউনিয়নের পাহাড়ি পটল গ্রামে। তার বাবার নাম রেহান আলী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রোববার সন্ধ্যায় মেলান্দহ থানা পুলিশের একটি দল পাহাড়ি পটল গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৫ পিস ইয়াবা ও ৫ গ্রাম হেরোইনসহ রেহান আলীর ছেলে মাদক ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে (৩০) গ্রেফতার করে।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে থানা হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য পুলিশ তাকে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্থানান্তর করা হয় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু ওই হাসপাতালে পৌঁছার আগেই রাত ৯টার দিকে রাস্তায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের চাচা জালাল উদ্দিন ও ছোট ভাই জাকির হোসেন বলেন, গ্রেফতারের পর রাত ৯টার দিকে আমরা খবর পাই সোহেল রানাকে পুলিশ মেলান্দহ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। পরে শুনতে পাই তার মৃত্যু হয়েছে। একজন সুস্থ মানুষকে গ্রেফতারের পর পরই স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে না। পুলিশের নির্যাতনের কারণেই সোহেল রানার মৃত্যু হয়েছে।

মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদনকারী ও জামালপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইমরানুল হকের ভাষ্য, নিহত ব্যক্তির শরীরের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তার মৃত্যুটি স্বাভাবিক। তারপরও পরিবারের অভিযোগের কারণে লাশটির ময়নাতদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।

মেলান্দহ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজাহারুল করিম বলেন, পুলিশ মাদকসহ সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে। থানা হেফাজতে থাকাকালে রোববার সন্ধ্যার দিকে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। এরপর পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে তাকে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

মাজহারুল করিম আরও বলেন, সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদকসেবন ও বিক্রির অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেয়া হয়নি বলেও জানান ওসি মো. মাজাহারুল করিম।

এএম/জেআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।