বাসাইলে বালুতে বিলীন প্রায় দুই শতাধিক একর আবাদি জমি
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার কাশিল গ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ঝিনাই নদীর শাখা নদী লাঙ্গুলিয়ার স্রােতের সঙ্গে ভেসে আসা বালুতে বাসাইল পৌর এলাকার অন্তর্ভূক্ত মাইজখারা বিলের প্রায় ২শ একর আবাদি জমি বালুর নিচে পড়েছে।
অতিরিক্ত বালু পড়ার ফলে মাটি হারিয়েছে এর উর্বরতা। বিশাল পরিমাপের এ জমিগুলো উর্বরতা হারিয়ে পরিণত হয়েছে পরিত্যক্ত জমিতে। এর ফলে এ জমিতে উৎপাদিত ফসলে নির্ভরশীল এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক কৃষক পরিবারের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত এ জমিগুলো থেকে বালু সরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে উপজেলার কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি ভূমিহীন হয়ে পড়বে এসব কৃষক পরিবার।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে জানা যায়, গত বর্ষা মৌসুমে ঝিনাই নদী থেকে ভেসে আসা বালু লাঙ্গুলিয়া নদী দিয়ে মাইজখারা উত্তর বিল, দক্ষিণ বিল, পশ্চিম বিল, সেহরাইলের দক্ষিণ বিল ও কলিয়া পশ্চিম বিলে পড়ে। এতে পলল গঠিত বেলে-দোআঁশ মাটির তিন ফসল আবাদি জমি প্রায় আড়াই থেকে তিন ফিট বালুর নিচে চাপা পড়ে চাষাবাদের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বালু চাপা পড়া এলাকার অনেক কৃষক এসব জমি থেকে ফসল উৎপাদন করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতো। খাদ্য শস্য উৎপাদনের শেষ সম্বল একচিলতে জমি বালুর নিচে চাপা পড়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে উপজেলার বিশাল সংখ্যক কৃষক পরিবার।
এই জমি আবাদ না করতে পারলে এলাকার কৃষকরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সারা বছর কীভাবে বেঁচে থাকবেন এমন দুশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করছেন তারা।
মাইজখারার কৃষক আজিজুর রহমান বলেন, আমার ৩ একর জমির উপর বালু পড়েছে। এ জমিতে তিন ফসল আবাদ করা যেতো, কিন্তু এখন সম্পূর্ণ জমি ফসল উৎপাদনের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। একমাত্র কৃষি উৎপাদনের উপর নির্ভর করেই চলে আমার সংসার। আসন্ন বোরো মৌসুমের আগে জমিগুলোর বালু মুক্ত করা না গেলে কোনো প্রকার ফসল আবাদ করা যাবে না। এতে না খেয়ে মরণ ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই আমাদের।
অপর এক কৃষক আতাউর রহমান আতা বলেন, ঝিনাই নদী থেকে ভেসে আসা বালু লাঙ্গুলিয়া নদী দিয়ে এ বিলে পড়ে প্রায় ২শ একর কৃষি জমি প্রায় বিনষ্ট হয়েছে। জমিগুলো হয়ে পড়েছে উৎপাদনের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। এর মধ্যে আমারও ২ একর জমিতে বালু পড়েছে। 
ক্ষতিগ্রস্ত এ সকল জমির কৃষকরা বালু অপসারণ কাজে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন। এবং ভবিষ্যতে এলাকার কৃষকের আবাদি জমি যাতে বর্ষায় ভেসে আসা বালুতে গ্রাস করতে না পারে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, আমি ইতোমধ্যেই বালু চাপা পড়া এলাকাটি পরিদর্শন করেছি। সেহরাইল হইতে পশ্চিম চক পর্যন্ত লাঙ্গুলিয়া নদীর পূর্ব পাশ মাইজখারা এবং কলিয়ার কিছু অংশসহ প্রায় ২শ একর জমিতে বালু পড়ে আবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সেহরাইল হইতে পশ্চিম চক পর্যন্ত লাঙ্গুলিয়া নদীর ৪ কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলে ভবিষ্যতে এ জমিগুলোতে আর বালু পড়বে না। এখন এ সমস্ত জমি বালু মুক্ত করে আবার চাষাবাদ যোগ্য করে তোলা সম্ভব বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সায়মা আক্তার জানান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সঙ্গে পরামর্শ করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/এমএস