টাঙ্গাইলে বাণিজ্যিকভাবে মৌ চাষ


প্রকাশিত: ০৬:৩১ এএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬

টাঙ্গাইলে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয়েছে মৌ চাষ। মৌ চাষে চাষিদের আগ্রহী করতে এগিয়ে এসেছে বিসিক শিল্প নগরী। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে প্রতিবছরই দেয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ। এর ফলে দিনদিন জেলায় বৃদ্ধি পাচ্ছে এ মৌ চাষির সংখ্যা। বাণিজ্যিকভাবে এ মৌ চাষে যেমন লাভবান হচ্ছে মৌ চাষি, তেমনি বৃদ্ধি পাচ্ছে আবাদী জমিতে সরিষাসহ নানা ধরণের রবিশষ্যের ফলন।

টাঙ্গাইল বিসিক শিল্প নগরী অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৫দিন ব্যাপী মৌ চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে রাণী মৌমাছিসহ একটি মৌ চাষের বাক্স ও মধু সংগ্রহ করতে একটি প্রসেসিং মেশিন। বর্তমানে জেলায় মোট মৌ চাষির সংখ্যা ১৬০ জন। গত বছর  এ জেলায় মধু উৎপাদন হয়েছিল ১২০ মেট্রিক টন আর এ বছর মধু উৎপাদনে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫০ মেট্রিক টন।

স্থানীয় মৌ চাষিদের দেয়া তথ্যে জানা যায়, বিসিক শিল্প নগরী থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলার মৌ চাষি সাবলম্বী হওয়ায় এখন এ চাষের কদর বেড়েছে। জেলার অসংখ্য বেকার যুবক এখন এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে বণিজ্যিকভাবে শুরু করেছে এই মৌ চাষ। এ চাষ লাভজনক হওয়ায় মৌ চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Tangail

এ প্রসঙ্গে গোপালপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মৌ চাষি সুজন মিয়া জানান, গত বছর তিনি বিসিক শিল্প নগরী থেকে মৌ চাষের প্রশিক্ষণ নিয়ে গ্রামে চাষ শুরু করেন । বিসিক শিল্প নগরী তাকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে রাণী মৌ মাছিসহ একটি বাক্স, এবং মধু সংগ্রহ করতে একটি প্রসেসিং মেশিন দেয়। তা দিয়েই তিনি শুরু করেন এই চাষ। বর্তমানে তিনি আড়াইশ বাক্স বসিয়ে করছেন এই মৌচাষ। প্রতিটি বাক্স থেকে সপ্তাহে তিনি গড়ে ৪ কেজি মধু সংগ্রহ করছেন। জেলার অধিকাংশ মৌ চাষি এখন সারা বছর মৌ চাষ করে প্রায় লাখ লাখ টাকা আয় করছেন বলেও জানান তিনি।

এ সময় তিনি বলেন, মৌ চাষের শুরুর দিকে গ্রামের কৃষকরা জমির ফলন নষ্ট হবে ভেবে তাদের আবাদী জমিতে মৌ চাষের বাক্স দিতে দিত না। এ কারণে স্বল্প পরিসরে আর নিজেদের জমিতে এর চাষ করতে হত। মৌমাছিরা ফুলের পরাগায়ণ ঘটিয়ে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করে কৃষি কর্মকর্তা এবং বিসিক প্রশিক্ষকদের এমন পরামর্শে সাধারণ কৃষকদের এখন সে মানসিকতার পরিবর্তন হয়েছে। পরামর্শ আর ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির সত্যতা পেয়ে এখন প্রতিটি আবাদী জমির পাশে মৌমাছির বাক্স স্থাপন করতে সহযোগিতা করছে সাধারণ কৃষকরা।

মৌ চাষ প্রসঙ্গে স্থানীয় কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী কৃষক মজিদ মিয়া বলেন, এই মৌ চাষের ফলে যেমন মধু পাচ্ছেন মৌ চাষিরা, তেমনি অন্যান্য শষ্যের ফলনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলন বৃদ্ধির কারণে তিনি তার ৫ একর জমিতে আবাদকৃত সরিষা খেতের পাশে মৌ চাষের বাক্স স্থাপন করতে দিয়েছেন। এ কারণে সরিষার ফলন ভালো হওয়ার সম্বাবনা দেখা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

Tangail

মৌ চাষে আবাদী জমির কোনো ক্ষতি হয়না যেনে এখন শুধু এই উপজেলায় নয়, প্রতিটি উপজেলার খাদ্যশষ্য উৎপাদনকারী কৃষক আবাদী জমিতে এ চাষ করতে সাহায্য করছে।  

বৃহত্তর ময়মনসিংহ মৌ চাষি সমিতির সভাপতি মো. আবু হানিফ খান জানান, সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে পর্যাপ্ত পরিমাণে মধু সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। দেশে উৎপাদিত মধু, বিদেশে রফতানি করে কোটি কোটি টাকা আয় করাসহ মধু দিয়েই চিনির চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে বলেও মনে করেন তিনি।

টাঙ্গাইল মধুপুর উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. আবুল হোসেন জানান, এ জেলায় মৌ চাষের অপার সম্ভবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে চাষিদের সরকারি পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল বিসিক শিল্প নগরীর সহকারী মহাব্যাবস্থাপক মো. মিরাজ উদ্দিন (ভারপ্রাপ্ত) জানান, সরকারিভাবে মধু প্রসেসিং সেন্টার নির্মাণ হচ্ছে। এর নির্মাণকাজ শেষ হলে সরকারিভাবে মধু সংগ্রহ করা হবে। এতে মৌ চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। অতি অল্প সময়েই দেশে মৌ চাষে বিপ্লব ঘটবে।

আরিফ উর রহমান টগর/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।