টাঙ্গাইলে তাঁত শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু


প্রকাশিত: ০৮:৫৫ এএম, ০১ জানুয়ারি ২০১৭

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার চন্ডী গ্রামের নিতাই বসাকের বাড়ির তাঁতঘর থেকে সুকুমার (৪৮) নামের এক তাঁত শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার সকালে তাঁত ঘরের ভেতরের বিছানা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সুকুমারের বাড়ি উপজেলার দুল্যা গ্রামে। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যা এ নিয়ে পুলিশ ও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ‘মনে-মন্টুর শাড়ী’ নামে পরিচিত এই শাড়ী কারখানায় শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুতে এলাকায় নানা সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে।
 
মনে-মন্টু ও পলান বসাকের বাবা নিতাই বসাক বলেন, গত ২৫ বছর ধরে সুকুমার তাদের কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে আসছে। রোববার সকালে সুকুমারকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায় প্রতিবেশী দুর্গা।

দুর্গা জানান, ভোরে সুকুমারের ভাই রণজিৎ তাকে সুকুমারের মৃত্যুর খবর দেন। প্রতিবেশী অন্যান্যরা বলেন, শুনেছি রাতে অসুস্থ হয় সুকুমার। তাকে মাথায় পানি দেয়া হয়। পরে  প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকও ডাকা হয়।

এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে অতিরিক্ত মদ পানের কারণে সুকমারের মৃত্যু হতে পারে। শোয়ার ঘর খোলা, শরীরে মাটি থাকা, পরনের কাপড় ভেজাসহ বেশ কয়েকটি কারণ দেখিয়ে স্থানীয়দের অনেকেই বলছে, তাকে কেউ পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে শোওয়ার ঘরে রেখে গেছে।

সুকুমারের ভাই রণজিৎ জানান, মনে-মন্টুর বাড়ির ফোন পেয়ে তিনি জানতে পারেন তার ভাই সুকুমার মারা গেছেন।

পুলিশও সুকুমারের মৃত্যুকে প্রাথমিকভাবে রহস্যজনক বলে মনে করছেন। স্থানীয়রা বিষয়টি থানায় না জানিয়ে ধামাচাপা দিয়ে মিমাংসা করার চেষ্টা করলেও পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

দেলদুয়ার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ব্যাপারে কেউ থানায় মামলা করেনি। প্রাথমিকভাবে সকুমারের মৃত্যু রহস্যজনক মনে করে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরিফ উর রহমান টগর/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।