মক্কায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ৪ শ্রমিক টাঙ্গাইলের


প্রকাশিত: ০৩:৩৬ পিএম, ০৫ জানুয়ারি ২০১৭

সৌদি আরবের মক্কায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত বাংলাদেশি ৫ শ্রমিকের মধ্যে চারজনের বাড়ি টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায়। দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই নিহত শ্রমিকদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

নিহত পরিবারের স্বজনদের অভিযোগ এখন পর্যন্ত প্রশাসন বা জন প্রতিনিধিদের কেউ কোনো খোঁজ-খবর নেয়নি। দ্রুত মরদেহ দেশে আনাসহ আর্থিক সহযোগীতার দাবি করেছেন স্বজনরা।

নিহতের স্বজনদের ভাষ্যমতে, নিহত শ্রমিকরা ভিটা বাড়ি বিক্রি করে গত ১ বছর পূর্বে ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। গত ২৯ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের মক্কায় সিডর কোম্পানির শ্রমিক ক্যাম্পে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৪ বাংলাদেশি নিহত হয় এবং আহত হয় আরো পাঁচজন।

পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে আরো একজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে চারজনই টাঙ্গাইলের। এ ঘটনায় নিহতরা হলেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের আব্দুস সবুরের ছেলে শরিফুল ইসলাম, ঘাটাইল উপজেলার পেচারআটা গ্রামের নান্নু মিয়ার ছেলে আরিফ হোসেন, একই উপজেলার দেওপাড়া গ্রামের হানিফ ও ভুয়াপুর উপজেলার মাটিকাটা গ্রামের চাঁন মামুদের ছেলে শহিদুল ইসলাম।

সদর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের নিহত শরিফুল ইসলামের চাচাতো ভাই অভিযোগ করে বলেন, নিহতদের বাড়িতে শোক আর আহাজারি চললেও এখন পর্যন্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ কোনো প্রকার খোঁজ খবর নেয়নি। নিহতদের মরদেহ দ্রুত ফেরৎ আনতে ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দাবি করেন তিনি।

টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম বলেন, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে এনে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব হোসেন জানান, নিহত হওয়ার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তথ্য পাওয়া গেলে তাদের মরদেহ আনাসহ সকল প্রকারের সহযোগীতা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আরিফ উর রহমান টগর/এআরএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।