সেপটিক ট্যাংকে বৃদ্ধার মরদেহ


প্রকাশিত: ০৮:৫৮ এএম, ২৩ জানুয়ারি ২০১৭

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে নিখোঁজের এগারো দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে রহিমা বেগম (৫৫) নামে এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে পুলিশ নিজ বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত রহিমা বেগম এ উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের সাটিয়াচড়া গ্রামের মো. লিয়াকত হোসেনের স্ত্রী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, রহিমা বেগম গত এগারো দিন আগে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের পর তার ছেলে ওয়াসিম মিয়া মির্জাপুর থানায় একটি ডায়েরি করেন। মেয়ে চায়না বেগম সকালে টয়লেটের কাছে রাখা লাকড়ি আনতে যায়। এসময় তিনি দুর্গন্ধ পেয়ে ট্যাংকের কাছে গিয়ে মায়ের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান।

পরে তার চিৎকারে আশপাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।

জামুর্কী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সেলিম মিয়া ও রহিমা বেগমের নাতি রকি মিয়া জানান, নিহতের ছোট ছেলে ওয়াসিমকে একই ইউনিয়নের কাটরা গ্রামের সিরাজ ফকিরের ছেলে আদম ব্যবসায়ী আলম ও স্বাধীন কাতার পাঠায়। সেখান থেকে গত কয়েক মাস আগে তিনি দেশে ফেরত আসেন। এ বিষয়ে আদম ব্যবসায়ী আলম ও স্বাধীনের সঙ্গে ওয়াসিমদের বিরোধ চলছিল।
 
নিহতের ছেলে ওয়াসিম বলেন, গত বছরের জানুয়ারি মাসে আদম ব্যবসায়ী আলম ও স্বাধীন তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নিয়ে চাকরি দিয়ে কাতার পাঠায়। সেখানে আড়াই মাস চাকরি করার পর কোম্পানি তাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।

দেশে আসার পর আলম ও স্বাধীনের কাছে টাকা ফেরত চাওয়ায় মাঝে মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুই পরিবারের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় আদালতে মামলাও করেছেন বলে ওয়াসিম জানান।

গত ১১ দিন আগে তার মা রহিমা বেগম নিখোঁজ হন। পরে তিনিই মির্জাপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

মির্জাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাইন উদ্দিনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, সেপটিক টেংকি থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্দার করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উলে­খ করেন।

এস এম এরশাদ/এফএ/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।