রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার
বান্দরবানের থানচি উপজেলায় দুই কিলোমিটার রাস্তার পাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৫ জানুয়ারি উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবানের থানচি সদর থেকে ছাংদাক পাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার ইট সোলিং রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। রাস্তার দুই পাশে ১০-১৫টি অংশে নির্মাণ করা হচ্ছে রিটেইনিং ওয়াল। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তায় ইটের সোলিং এবং রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে।
উপজেলার টিএনটি পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হারুন এবং কামাল অভিযোগ করেন, রিটেইনিং ওয়ালের ঢালাই কাজে স্থানীয় বালি এবং নতুন রডের বদলে পুরনো রড ব্যবহার করা হচ্ছে।
তারা আরও জানান, রাস্তা এবং রিটেইনিং ওয়াল তৈরিতে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের একটি অভিযোগপত্র আমরা উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিয়েছি।
এদিকে থানচি উপজেলা চেয়ারম্যান ক্য হ্লা চিং বলেন, এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
তিনি বলেন, ঢালাইয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ওইদিনই কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। ভবিষ্যতে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কিন্তু উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে ওই দিন কাজ সাময়িক বন্ধ থাকলেও পরদিন ম্যানেজার সরোওয়ার ও সুপারভাইজার কমলের নির্দেশে শ্রমিকরা ঢালাই কাজ পুনরায় শুরু করেন।
এদিকে ঢালাই কাজে এলাকাবাসী আবারও বাধা দিলে হট্টগোল ও এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট করতে গেলে ম্যানেজার সরোওয়ার ও সুপারভাইজার কমল স্থানীয় সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঠিকাদার আনিসুর রহমান সুজন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ রড ও স্থানীয় বালি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি। বিষয়টির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আজিজ বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রিটেইনিং ওয়াল ঢালাইয়ের সময় তদারকি কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। সহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিমের অনুপস্থিতিতে কোনোমতেই ঢালাই কাজ গ্রহণ যোগ্য হবে না। এছাড়া নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
এমএমজেড/জেআইএম