পটুয়াখালীতে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিতে শিক্ষকের ভাগ
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বর্তমান সরকার উপবৃত্তির ব্যবস্থা চালু করলেও পটুয়াখালীর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে উপবৃত্তির টাকা থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা না থাকায় এবং তথ্য প্রমাণের অভাবে এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। এতে শিক্ষকদের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার জৈনকাঠী ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের কৃষক আসাদ সিকদার। অভাবের সংসারে দুই মেয়ে ও দুই ছেলেকে লেখাপড়া করাচ্ছেন তিনি।
সরকারের উপবৃত্তি প্রদানের যে উদ্যোগ তাতে তার কিছুটা হলেও সহযোগিতা হচ্ছে। আসাদ সিকদার জানান, তার ছোট মেয়ে রহিমা আক্তার কেশবপুর আল-আমিন দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী।
এ বছর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তার অ্যাকাউন্টে ৯০০ টাকা এসেছে। তবে এই টাকা থেকে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অফিস খরচ বাবদ ৩০০ টাকা কেটে নিয়েছে। শুধু তার মেয়েই নয়, যারা উপবৃত্তি পেয়েছে তাদের সবার কাছ থেকেই ৩০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে।
আল-আমিন দাখিল মাদরাসার ১০ শ্রেণির ছাত্রী রাহিমা আক্তার জানায়, তার ক্লাস রোল ১। তাদের ক্লাসের চার শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পেয়েছে। পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেয়ার সময় এদের সবার কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে।
তবে কেশবপুর আল-আমিন দাখিল মাদরাসা কমিটির সভাপতি ইদ্রিস সিকদার বলেন, সব শিশুকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে বর্তমান সরকার এ উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছে। তবে আমার এ প্রতিষ্ঠানে কোনো উপবৃত্তির টাকা থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয় না। তারপরও যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, আমি বিষয়টি দেখবো।
কেশবপুর আল-আমিন দাখিল মাদরাসার সহকারী সুপার মো. জাকির হোসেন বলেন, আমরা কোনো প্রকার উপবৃত্তির টাকা থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করিনি।
পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাকাহীদ হোসেন বলেন, উপবৃত্তি প্রদানের ফলে মাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলেমেয়েদের ঝরে পড়ার হার অনেকটাই কমে এসেছে। সরকারের এ উদ্যোগকে সফল করতে আমরা কাজ করছি।
কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যদি উপবৃত্তির টাকা দেয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা কেটে রাখে বা শিক্ষকরা কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ করেন তবে তাদের ছাড় দেয়া হবে না। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/আরআইপি