সিরাজগঞ্জের এক উপজেলায় ৩৩ ইটভাটা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ২৭টি ইটভাটা থাকার পরও একের পর এক কৃষিজমিতে গড়ে উঠেছে আরো ছয়টি ইটভাটা।
পরিবেশে অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ইতিমধ্যে পাঁচটি নতুন ইটভাটায় ইট পোড়ানো শুরু হয়েছে। এসব ইটভাটার চারপাশে রয়েছে বিস্তীর্ণ ধান খেত। এরই মধ্যে পাঁচটি নতুন ইটভাটায় ইট পোড়ানোও শুরু হয়ে গেছে। আর সেখানকার ধোঁয়ায় কালো হয়ে উঠছে চারদিক।
এদিকে ইট ভাটার চিমনির ধোঁয়ায় বালু, কয়লার গুঁড়া ও ছাই উড়িয়ে আশপাশের ফসল, বাগান ও গাছপালার ক্ষতি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরব ভূমিকা পালন করছে।
এলাকাবাসী ও উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের মধ্যে চান্দাইকোনা ইউনিয়নে আছে সর্বোচ্চ আটটি ইটভাটা। এছাড়া সোনাখাড়া ইউনিয়নে ছয়টি, ধানগড়ায় পাঁচটি, পাঙ্গাসীতে তিনটি, ব্রহ্মগাছা ও ঘুড়কায় দুটি করে এবং ধুবিল ইউনিয়নে একটি ইটভাটা রয়েছে। প্রতিবছরই ইটের ব্যবহার ও দাম বাড়ায় বাড়ছে ইটভাটার সংখ্যা।
এরই ধারাবাহিকতায় এ বছরেও নতুন ছয়টি ইটভাটা নির্মাণ করা হয় উপজেলার বিভিন্ন জায়গায়। তিনটি নতুন ইটভাটা হয়েছে সোনাখাড় ইউনিয়নে। আর চান্দাইকোনা, ব্রহ্মগাছা ও ঘুড়কা ইউনিয়নে হয়েছে একটি করে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন অনুযায়ী কৃষিজমি, আবাসিক এলাকা, সরকারি বা ব্যক্তিগত বন, অভয়ারণ্য, বাগান বা জলাভূমিতে ইটভাটা করা যাবে না নিয়ম থাকলেও এ বছর রায়গঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষি জমিতে নতুন আরো ছয়টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে উপজেলায় যখন বিনানুমতিতে ভাটাগুলো তৈরি শুরু হয় তখন কোনো বাধা দেয়া হয়না। কারণ তখন মোটা অংকের টাকা লেনদেন হয়। এজন্য অবৈধ হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়না। 
অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসকল ইটভাটার কারণে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে এই উপজেলায় কৃষি জমিতে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকেরা।
তারা জানান, অনেকটা বাধ্য হয়েই আমাদের কৃষিজমি ভাটার মালিকের কাছে হস্তান্তর করতে হচ্ছে। আর জমি না হস্তান্তর করলেও ভাটার আশপাশের কোনো জমিতেই ফসল ফলাতে পারছেন না।
ইটভাটা গড়ে তোলার ব্যাপারে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিজেরা করির প্রকল্প সংগঠক কামরুল হাসান জানান, ফসলি জমিগুলো দিনে দিনে ইটভাটায় পরিণত হচ্ছে। অথচ যাদের দেখার কথা তারা কেউ এসব দেখছেন না।
কৃষক রহিজ উদ্দিন, মজিবুর রহমান, খায়রুল ইসলাম জানান, দেখতে দেখতে চারপাশ ইটভাটায় ভরে গেল। ভাটার চিমনির ধোঁয়ায় বালু, কয়লার গুঁড়া ও ছাই উড়িয়ে আশপাশের ফসল, বাগান ও গাছপালার ক্ষতি হলেও কেউ এসব দেখে না। অথচ এ বিষয়ে নাকি আইনও আছে।
ইটভাটায় কর্মরত জহির সেখ ও জয়নাল নামে শ্রমিক জানান, ফসলি জমি ছাড়া ইটভাটা করার জায়গা পাওয়া যায়না। ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করে ওই জমির মাটি দিয়েই ইট তৈরি করা হয়। দুই কাজেই ফসলি জমির দরকার বলে কৃষি জমিতেই গড়ে তোলা হচ্ছে ইটভাটা।
রায়গঞ্জ উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও কেয়া ব্রিকসের মালিক আব্দুুল কাদের তালুকদার জানান, উপজেলায় পুরোনো ২৭টি ইটভাটার মধ্যে ১৪টি নিয়ে তাদের সমিতি। বাকি ভাটার মালিকেরা সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির সঙ্গে যুক্ত।
রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, কৃষি জমিতে ইটভাটা করার পক্ষে প্রত্যয়নপত্র দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কয়েকজন ইটভাটার মালিক প্রত্যয়নপত্র নেয়ার জন্য আবেদন করলেও কাউকেও এটা দেয়া হয়নি।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল আখতার জানান, অবৈধভাবে যদি কেউ ইটভাটা নির্মাণ করে থাকে তাহলে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক এ কে এম মাসুদুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, ফসলি জমিতে ইটভাটা করার কোনো ছাড়পত্র দেয়া হয় না। যদি কেউ দেয় তাহলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এমএএস/জেআইএম