অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা!
বগুড়ায় পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে সড়ক-মহাসড়কে মারমুখী ছিলেন শ্রমিকেরা। মহাসড়কে গাড়ি দেখলেই তারা হামলা করেছে। সেই সঙ্গে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে ভাঙচুর ও হামলা চালিয়ে চালকদের মারধর করেছে তারা। মুঠোফোন ও টাকা-পয়সা কেড়ে নেয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে একাধিক স্থানে।
শ্রমিকদের হামলা থেকে রক্ষা মিলেনি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, সংবাদপত্রবাহী গাড়ি, প্রাইভেটকারসহ জরুরি পণ্যবাহী অন্যান্য যান।
তবে এতো কড়াকড়ির মধ্যেও পরিবহন শ্রমিকদের নেতারা নিজেরা ব্যক্তিগত গাড়িতে চড়ে মহাসড়কে নির্বিঘ্নে ঘুরেছেন। পুলিশও মহাসড়কে তাদের এসব তান্ডব দেখেছে দর্শক হয়ে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রমিকদের এই মারমুখী আচরণ ছিল মহাসড়কের চারমাথা, তিনমাথা, মাটিডালি মোড়, বনানীমোড়সহ শহরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে।
তারা প্রাইভেট গাড়ি থেকে আরোহীদের নামিয়ে হেনস্থা করেছে। শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় শ্রমিকদের এই তান্ডব থেকে রক্ষা মেলেনি স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদেরও।
সকাল ৯টার দিকে মহাসড়কের চারমাথা-গোদারপাড়া এলাকায় শ্রমিকদের হামলা ভাঙচুরের কবলে পড়ে রোগী বহনকারী একটি অ্যাম্বুলেন্স। শ্রমিকেরা অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর চালিয়ে চালককে মারধর করেন। রোগীর সঙ্গে থাকা স্বজনদের অপদস্থ করেন। প্রায় অধাঘণ্টা আটকে রাখার পর পুলিশ গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটিকে উদ্ধার করে।
ভোরে ঢাকা থেকে সংবাদপত্রবাহী গাড়িগুলোকে চারমাথা আটকে রাখা হয়। প্রায় ৩ ঘণ্টা পর পুলিশের সহযোগিতায় সেই গাড়ি গুলোর মুক্তি মিলে। এ সময় চারমাথা এলাকায় সংবাদপত্রবাহী গাড়িও ভাঙচুর করে শ্রমিকেরা।
একই সময় চারমাথা, তিনমাথা ও মাটিডালি মোড়ে সড়কের টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করে শ্রমিকেরা। পুলিশ মহাসড়কে থাকলেও শ্রমিকদের এসব তান্ডবে বাধা না দিয়ে উল্টো সহযোগিতা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক গাড়িচালক।
চট্টগ্রাম ইপিজেড এলাকার গার্মেন্টস কর্মী শাহজাহান আলী মায়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে মঙ্গলবার রাতে পরিবারের সব সদস্যসহ রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন।
এর মধ্যে শাজাহানের ছোট ভাইয়ের ১০ বছরের শিশু কন্যা সুমাইয়া অ্যাজমার সমস্যায় শ্বাসকষ্টে ভোগায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়েছিলেন।
শাজাহান আলী বলেন, সকাল ৯টার দিকে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি বগুড়ার চারমাথা-গোদারপাড়া এলাকায় পৌঁছালে পরিবহন শ্রমিকেরা অ্যাম্বুলেন্সে হামলা করে। তারা নির্বিচারে ভাঙচুর চালায় এবং চালক সবুজ মিয়াকে মারধর করে। মুঠোফোন ও টাকা পয়সা কেড়ে নেয়। এ সময় শ্রমিকেরা আমারদেরকেও অপদস্থ করে। প্রায় আধাঘণ্টা আটকে রাখার পর পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।
বগুড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল লতিফ মন্ডল জানান, শ্রমিক নামধারী কিছু সন্ত্রাসী মহাসড়কে ট্রাক নিয়ে এসব তান্ডব চালিয়েছে। এরা কেউই মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্য নয়।
লিমন বাসার/এএম/আরআইপি