ছুরিকাঘাতে চাচাকে হত্যা, ভাতিজার মৃত্যুদণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁদপুর
প্রকাশিত: ০৯:৫০ পিএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

কুমিল্লায় জমিসংক্রান্ত বিরোধে ছুরিকাঘাত করে বাড়ির সম্পর্কে চাচা মো. ছিদ্দিকুর রহমান ছিদ্দিককে (৩৭) হত্যার দায়ে ভাতিজা মো. সারোয়ার আলমকে (৩২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এসময় তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় দেন।

একই আসামিকে অপর ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ৪ হাজার টাকা জরিমানা এবং দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

হত্যার শিকার ছিদ্দিুকুর রহমান কুমিল্লা জেলা সদর দক্ষিণ থানার রাজাপাড়া এলাকার কাজীপাড়া গ্রামের সফর আলী বাড়ির মৃত হাজী আমির হোসেনের ছেলে। পেশায় ছিলেন বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার এবং ঘটনার সময় তার তিন বছর বয়সি কন্যা সন্তান ছিলো।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. সারোয়ার আলম একই বাড়ির মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে। তিনিও পেশায় বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবসায়ী।

মামলার এজহার ও অন্যান্য কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার রাঢ়া রাজাপুরা চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের পাশে একটি কালো ড্রাম লোকজন দেখতে পায়। পুলিশকে জানালে পুলিশ লোকজনের উপস্থিতিতে ওই ড্রাম খুলে ভিতরে ছিদ্দিকের মৃতদেহ দেখেন। মরদেহ উদ্ধার ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পুলিশ। এই ঘটনায় শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুল আউয়াল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই ঘটনার পূর্বে ছিদ্দিক বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা দক্ষিণ থানায় জিডি হয়। ওই জিডির সূত্র ধরে তাকে পরিবারের লোকজন মরদেহ শনাক্ত করে।

মামলার পরে ঘটনাটি তদন্ত করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চাঁদপুরের পুলিশ পরিদর্শক মীর মাহবুবুর রহমান। তিনি ঘটনাটি তদন্তকালে ২০২০ সালের ১৬ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার মিয়ার বাজার এলাকা থেকে আসামি সারোয়ার আলমকে গ্রেপ্তার করে চাঁদপুর আদালতে সোপর্দ করে। ঘটনাটি তদন্ত শেষে তিনি ২০২১ সালের ২ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাড়ির চলাচলের রাস্তা না দেওয়ায় ছিদ্দিককে হত্যার পরিকল্পনা করে আসামি সারোয়ার। সেই পরিকল্পনা ও ক্রাইম পেট্রোল দেখে ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় কুমিল্লা দক্ষিণ থানার চাঁদপুর নামক স্থানের হাজারী পাম্পের দক্ষিণ পাশে ইতালি প্রবাসী মো. মাহবুবুর রহমান শামীমের বাড়ির চতুর্থ তলায় ফোন করে ডেকে নিয়ে তাকে প্রথমে আটকে রাখে এবং পরে রাতে মারধর ও শরীরের একাধিক স্থানে ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে। সেখান থেকে পরদিন ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় পিকআপ ভ্যান ভাড়া করে এবং ড্রামে মরদেহ ঢুকিয়ে চাঁদপুরের রাঢ়া রাজাপুরা নামক স্থানে ফেলে অটোরিকশায় কুমিল্লায় চলে যায়।

মামলায় রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কুহিনুর বেগম এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম শাওন।

পিপি কুহিনুর বেগম বলেন, মামলাটি পাঁচবছরের অধিক সময় চলাকালে আদালত ২০জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্য গ্রহণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা ও আসামি তার অপরাধ স্বীকার করায় তার উপস্থিতিতে বিচারক এই রায় দেন। এই মামলায় অপর আসামি সারোয়ার এর আপন ভাই নুরে আলমকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

শরীফুল ইসলাম/আরএইচ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।