নারীদের দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণে অনিয়মের অভিযোগ
টাঙ্গাইল জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় পরিচালিত জীবিকায়নের জন্য নারীদের দক্ষতা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে তিন মাস মেয়াদি ওই প্রশিক্ষণের ভাতা নিয়ে অনিয়ম হয়েছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রশিক্ষণার্থীরা।
জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১২টি উপজেলার ১২টি সেন্টারে জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আধুনিক দর্জি বিজ্ঞান, চট ও কাপড়ের ব্যাগ, এমব্রয়ডারি, হাঁস-মুরগি পালন ও বিউটিফিকেশন ট্রেডে দশজন করে ৫০ জনকে তিন মাস করে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
এজন্য প্রশিক্ষণার্থীদের দৈনিক ৬০ টাকা হারে ভাতা দেয়া হয়। জেলা মহিলা কর্মকর্তার কার্যালয়ে সবার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় চারটি ট্রেডের জন্য টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়ায় একটি বাসা ভাড়া নেয়া হয়। প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতার একটি অংশ দিয়ে সে বাসা ভাড়া পরিশোধ করা হয় বলে জানা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, গেটের সামনে নেই ওই কর্মসূচির কোনো সাইনবোর্ড। তবে সেখানে একজনের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা ‘সূচি শিল্প’ নামের একটি সাইনবোর্ড রয়েছে।
সূচি শিল্পের নির্বাহী পরিচালক ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির প্রশিক্ষক মারজানা মেরী জাগো নিউজকে বলেন, আমার বাসার একটি কক্ষ মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কক্ষ হিসেবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাড়া দিয়েছি। তারপর থেকে সেখানে আমার শিল্প প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সূচি শিল্পে হাতে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রীর ওপর নারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণার্থীরা যেসব অভিযোগ তুলেছে হয়েছে তা পুরোপুরি মিথ্যা। আমার নিজের অনেক প্রশিক্ষণার্থী রয়েছে। কেন আমি অন্যদের আমার প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে দেখাব।
তিন মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণের সদ্য সমাপ্ত ব্যাচের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী জানান, বিগত বছরে প্রশিক্ষণার্থীরা বন্ধের দিনের ভাতাও পেয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এমনকি কোনো প্রশিক্ষণার্থী অনুপস্থিত থাকলে সেদিনের ভাতাও কাটা হচ্ছে।
বিগত ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে হাজিরা খাতা তার কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং সাদা কাগজে মেয়েদের স্বাক্ষর রাখতে প্রশিক্ষকদের নির্দেশ দেন। পরদিন সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিতে চাইলে প্রশিক্ষণার্থীরা কেউ দিতে রাজি হয়নি। পরে সাদা কাগজে শুধু উপস্থিতির স্বাক্ষর নেয়া হয়। তারপরও ভাতার জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের সাদা কাগজে স্বাক্ষরের জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে।
এছাড়া এই কার্যালয়ের হিসাব রক্ষক মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে কতিপয় কর্মকর্তারা ড্রপ আউট হয়ে যাওয়া প্রশিক্ষনার্থীদের স্বাক্ষর জাল করে পুরো ভাতার টাকা উত্তোলন করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা জাগো নিউজকে জানান, প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য আগে প্রতিদিন ২০ টাকা ভাতা ছিল। তখন ছুটির দিনেও এ ভাতা দেয়া হতো। এখন ভাতা ৬০ টাকা করা হয়েছে। এজন্য ছুটির দিনের ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটি সরকারি সিদ্ধান্ত।
তিনি আরো জানান, প্রশিক্ষণ কর্মসূচির জন্য বাসা ভাড়া বাবদ কোনো ভাতা কাটা হয় না। এটা অন্যভাবে সংগ্রহ করা হয়।
প্রশিক্ষণার্থীদের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে নাসরিন সুলতানা বলেন, আমাদের অফিসে রাজনীতি আছে। নিজেদের ঘরে শত্রু রয়েছে। তারাই নানা অভিযোগ তুলছে।
আরিফ উর রহমান টগর/আরএআর/জেআইএম