চলতি সপ্তাহেই যেভাবে ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২:২৮ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ইরানি সংবাদপত্রে প্রকাশিত ছবিতে লেখা ‌‌‌‌ইরান একটি বড় প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত/ ছবি: এএফপি

চলতি সপ্তাহেই ইরানে ‘নির্ভুল হামলা’ চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তা মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর জন্য যাদের দায়ী মনে করা হচ্ছে, সেই ‘উচ্চ পর্যায়ের (হাই-ভ্যালু) ইরানি কর্মকর্তা ও সামরিক কমান্ডারদের লক্ষ্য করে এই নির্ভুল হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

সূত্র জানায়, এসব হামলা চলতি সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হতে পারে। তবে সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে বলে সোমবার এমইই-কে জানানো হয়েছে।

এদিকে, হামলার বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের ভেতরে যে আলোচনা চলছে, সেটিকে ‘বিশৃঙ্খল’ বলে বর্ণনা করেছেন এই কর্মকর্তা। বিশেষ করে, ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে কী ধরনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে- তা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় এক মাস ধরে ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর নৃশংস দমন-পীড়নের অজুহাতেই এই আলোচনা চলছে, যেখানে সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলে নেওয়ার’ আহ্বান জানালেও পরে অবস্থান থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই উত্তেজনা প্রশমনের সিদ্ধান্ত আসে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের, বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান ইরানে হামলার বিরোধিতা করার পর।

কিছু প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ইতি হিসেবে তুলে ধরা হলেও, সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন, এটি আসলে সাময়িক বিরতির নির্দেশ।

ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল নিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি উত্তেজনা বাড়ানো ও কমানোর মধ্যে দোলাচলে ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার ওই দেশটিতে হামলার নির্দেশ দেন, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়।

এক সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানান, প্রশাসনের ভেতরের আলোচনার ভিত্তিতে তাদের ধারণা হলো, ট্রাম্প এখনো তেহরানে ‘রেজিম পরিবর্তনের’ লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।

স্টিমসন সেন্টারের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির প্রধান র‍্যান্ডা স্লিম আগেই বলেছিলেন, ট্রাম্পের উত্তেজনা প্রশমনের পদক্ষেপটি ছিল ‘অস্থায়ী’। বরং, জানুয়ারির শুরুতে যে অবস্থান ছিল, তার তুলনায় এখন ইরানে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ক্ষয় হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার সরঞ্জাম পুনরায় মজুত করতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ‘মোট সরবরাহ’ বেড়েছে। তবে ইউক্রেনে সহায়তা দেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কিছুটা সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে।

এদিকে, ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (মেনা) অঞ্চলে আরও যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছেন। এই সামরিক সমাবেশ এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ও থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে পাঠাচ্ছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগর থেকে যাত্রা করে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন। এই রণতরীতে রয়েছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, এফ/এ-১৮ জেট ফাইটার ও ইএ-১৮জি গ্রোলার ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমান। এটির সঙ্গে রয়েছে গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থাও।

ওপেন-সোর্স ফ্লাইট ট্র্যাকারগুলো জানিয়েছে, জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি এয়ার বেসে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জর্ডানে যুদ্ধবিমান মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প পথ দিচ্ছে। কারণ, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ওপর হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা বা স্থাপনা ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বর্তমান ও সাবেক মার্কিন এবং আরব কর্মকর্তারা জানান, এই নিষেধাজ্ঞা এপ্রিল ২০২৫ থেকে কার্যকর রয়েছে।

এদিকে, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো আরব দেশের ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালায়, তাহলে ওই দেশগুলোও হামলার মুখে পড়বে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের ঘনিষ্ঠ বিশ্লেষকেরা প্রকাশ্যেও এই হুঁশিয়ারি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।

সৌদি আরব, ওমান, কাতার ও তুরস্ক- এই চারটি দেশের নাম পেছনের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ইরান হামলার বিরোধী হিসেবে উঠে এসেছে। তবে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও জর্ডান এই হামলাকে সমর্থন করছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।