বন্দুকযুদ্ধে নিহত মামা হুজুরের মিশন ছিল ‘পীর হত্যা’


প্রকাশিত: ০৭:১৮ এএম, ১৭ মার্চ ২০১৭

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের সঙ্গে ‘কথিত’ বন্দুকযুদ্ধে নিহত তাজুল ইসলাম মাহমুদ ওরফে মামা হুজুর (৪৬) নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের সহযোগী ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামা হুজুরের মূল মিশন ছিল যেসব ভণ্ড পীর ও কবিরাজ নারীদের সঙ্গে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত তাদেরকে গলাকেটে হত্যা করা।

শুক্রবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন জাগো নিউজকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ইকবাল হোসাইন জানান, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- মামা হুজুর কয়েক বছর আগে রাঙামাটিতে হরকাতুল জিহাদের (হুজি) প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তিনি আধুনিক সব অস্ত্রও চালাতে পারতেন। হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান কারাগারে যাওয়ার পর মামা হুজুর হুজি সংগঠন ছেড়ে একাই তার মিশন অনুযায়ী কাজ করার জন্য মনস্থ করেন।

মামা হুজুর প্রায়ই কসবায় এসে পীর সেজে মানুষের সঙ্গে মিশে গোপনে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে উষ্কানি দিয়ে তাদেরকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করতেন। জহির মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে নিজের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সফলও হয়েছিলেন মামা হুজুর।

তিনি জানান, নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণেই কসবা উপজেলার কাইয়ূমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কবিরাজ ফরিদ মিয়াকে মামা হুজুর প্রথম টার্গেট করেন। মামা হুজুর `বেহেশতে যাওয়ার` কথা বলে ফরিদ মিয়াকে গলাকেটে হত্যার জন্য জহির মিয়াকে নির্দেশ দেন। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর দিন মামা হুজুর বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিলেন এবং জহির ফরিদকে গলাকেটে হত্যা করেন।

মামা হুজুরের পরবর্তী টার্গেট ছিল জহির মিয়াকে নিয়ে তার নিজ জেলা হবিগঞ্জের আরেক পীরকে গলাকেটে হত্যা করা। তবে ফরিদ মিয়া হত্যার কয়েকদিনের মধ্যেই পুলিশ জহিরকে গ্রেফতার করায় মামা হুজুরের সেই টার্গেট আর সফল হয়নি।

তিনি আরও জানান, সিলেটে বিভিন্ন জঙ্গি হামলা এবং বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর হামলার সঙ্গেও মামা হুজুরের সম্পৃক্ততা ছিল। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার খড়মপুড়ে কেল্লা শাহ্’র মাজারে বোমা হামলার ঘটনাতেও সম্পৃক্ত ছিল মামা হুজুর। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অন্তত ৫টি মামলা রয়েছে। পুলিশ মামা হুজুরকে গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে তিনি জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন।

এর আগেই বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে কসবা উপজেলার কুটি চৌমুহনী এলাকায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তাজুল ইসলাম মাহমুদ ওরফে মামা হুজুর (৪৬)।

পুলিশের ভাষ্য, মামা হুজুরসহ তার সহযোগী ৫/৬জন জঙ্গি কুটি চৌমুহনী এলাকায় জঙ্গি কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুলিশের উপর ককটেল হামলা ও গুলি চালায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে জঙ্গি মামা হুজুরের মরদেহ উদ্ধার করে।

তবে বাকি জঙ্গিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে আটক করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় কসবা থানা পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টি ককটেল, ৫টি ধারালো চাপাতি ও ১টি পাইপগান এবং ৯ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার  করে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে কসবা উপজেলার কাইয়ূমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে কবিরাজ ফরিদ মিয়ার (৪৭) গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জহির মিয়া নামে এক ব্যক্তি জানান, ধর্ষণ, প্রতারণা ঠেকিয়ে `বেহেস্তে যেতে` কথিত মামা হুজুরের নির্দেশে ফরিদ মিয়াকে হত্যা করেন তিনি।

আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।