থানার দায়িত্ব নিতে মরিয়া সেই বদরুল
আবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ঢুকেছেন সমালোচিত পুলিশ পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর) বদরুল আলম তালুকদার। কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থাকাকালীন সময়ে এক ব্যবসায়ীকে নির্যাতন ও ক্রসফায়ারে হত্যার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির মামলাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বদরুলের বিরুদ্ধে।
বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত আছেন ওসি বদরুল। জেলার কোনো একটি থানায় পদায়নের জন্য জোর তদবিরও শুরু করেছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভৈরব থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) থাকাকালীন সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি আর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের অর্থ আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগ ছিল পুলিশ পরিদর্শক বদরুল আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ভৈরব থানার ওসি থাকাকালীন সময়ে মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িয় পড়েন পুলিশের এ কর্মকর্তা।
তার মাদক ব্যবসা নিয়ে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে ভৈরব থানা পুলিশের ওপেন হাউজ-ডে অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন ভৈরব মাদকমুক্ত সমাজ চাই আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল। এ ঘটনার কয়েকদিন পর ওসি বদরুল ইমতিয়াজকে আটক করে মাদক মামলায় চালানও দিয়েছিলেন।
২০১৬ সালের ১০ আগস্ট ভৈরবের কাঠ ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম বিজনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসে একটি হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তি দেয়ার জন্য চাপ প্রয়াগ করেন বদরুল। কিন্তু বিজন স্বীকারাক্তি দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে ক্রসফায়ারে হত্যার ভয় দেখিয়ে তার কাছ ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওসি বদরুল।
চাঁদা না দেয়ায় বিজনক একটি হত্যা মামলার আসামি করে চালান করে দেয়া হয়। পরে জামিনে কারামুক্ত হয়ে গত ৩ জানুয়ারি কিশারগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওসি বদরুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বিজন। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দন। এরপর চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি ভৈরব থানা থেকে প্রত্যাহার হন ওসি বদরুল।
এর আগে ২০১২ সালেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছিলেন বদরুল। সে সময়ও তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে সখ্যতার ব্যাপারে অভিযাগ উঠছিল। সম্প্রতি ভৈরব থেকে প্রত্যাহার হওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ঢুকেছেন ওসি বদরুল।
সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জেলার আশুগঞ্জ থানার দায়িত্ব নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ওসি বদরুল। এজন্য উপর মহল থেকে শুরু করে সর্বত্র জোর তদবির শুরু করেছেন তিনি। শুধু তদবিরই নয়, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আশুগঞ্জ থানায় পদায়নের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতার সঙ্গে চুক্তি হয়েছে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।
ওসি বদরুলের পদায়নের ব্যাপারে জেলা পুলিশের শীর্ষ কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ওসি বদরুল আলম তালুকদার তার বিরুদ্ধ সব অভিযাগ অস্বীকার করে বলেন, আশরাফুল আলম বিজন ভৈরবের একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। এছাড়া ভৈরব মাদকমুক্ত সমাজ আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজলের অভিযোগও সঠিক নয়।
আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/পিআর