পটুয়াখালীর বাতাসে পচা দুর্গন্ধ


প্রকাশিত: ০২:১৭ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০১৭

চলতি বছরের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে টানা পাঁচদিনের বৃষ্টিতে প্রায় অর্ধেক জমির মুগডালের গাছ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। আর দ্বিতীয় দফায় চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে টানা ৬দিনের ভারি বৃষ্টিতে মুগডাল ক্ষেত এখন পানির নিচে। সারাদেশের তুলনায় পটুয়াখালী জেলায় সবচেয়ে বেশি মুগডাল উৎপাদন হয়। আর বৃষ্টিতে সব ফসল ক্ষেতেই এখন পানি। শুধু মুগডালই না, দ্রুত পঁচনশীল ফসল যেমন মরিচ, তিল, তিশি, বাদাম, ফেলন ডাল এবং মিষ্টি আলুর পঁচা দুর্গন্ধ এখন বাতাসে বইছে।

কালিকাপুর ইউনিয়নের পূর্ব হেতালিয়া গ্রামের কৃষক মো. আজহার উদ্দিন তালুকদার বলেন, আমাগো অনেক ক্ষতি অইয়া গ্যাছে বাজান, এ্যাহন সরকার যদি ব্যাংকের লোনের (ঋণ) সুদ মাফ কইরগা দেতে আমাগো উপকার অইতে। অনেকের আবার এজিওর লোন আছে।

জানা গেছে, তিন ধাপে মুগডালের গাছে ফলন আসে এবং তিন ধাপেই ফলন তোলে কৃষক। চলতি মৌসুমে প্রথম ধাপে ডালের ছড়া তোলা শুরু হওয়ার মুহূর্তে টানা ভারি বৃষ্টিতে ফসলের এ বিপর্যয়। ফলে মাঠের পর মাঠ ফসসি জমির ওপর এখন বইছে পানি। সদর উপজেলার কালিকাপুর, ছোটবিঘাই, বড়বিঘাই, কমলাপুর লোহালিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে ফসলভরা সব ক্ষেতেই পানি। অনেক কৃষককে হতাশা থেকে বেড়িয়ে আসতে বিভিন্ন ফসলি জমিতে আইল দিয়ে পানি সেচ করে ফসল বাঁচানোর চেষ্টা করছে।

কাগজে কলমে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় যে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে বাস্তবের সঙ্গে এর তেমন মিল নেই।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এ বছর জেলায় ৮৩ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে মুগডাল আবাদ দেখিয়ে এরমধ্যে ২৬ হাজার ৭০০ হেক্টর ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। মরিচ আবাদ ৮ হাজার ৯২২ হেক্টর এবং ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ৯০০ হেক্টর, তিল আবাদ ২ হাজার ৮১২ হেক্টর এবং ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার হেক্টর, চিনা বাদাম ৫ হাজার ৬০৭ হেক্টর এবং ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ৮০০ হেক্টর উল্লেখ করা হয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম দেখানো সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা এ প্রতিনিধিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের উপরের নির্দেশনা রয়েছে যে পরিমাণ ফসলহানি হয় তা দেখানো যাবে না। যত কমিয়ে পরিসংখ্যান তৈরি করা যায়। সম্প্রতিক বৃষ্টিতে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পটুয়াখালীর অধিকাংশ ক্ষেতের ফসলই নষ্ট হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণে অধিদফতরের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম মাতব্বর জাগো নিউজকে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তা আমরা ঊর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সাহায্য আসলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা তা পাবে। এছাড়া আমরা পরবর্তী আবাদের জন্য কৃষকদের করণীয় সম্পর্কে পরমর্শ দিচ্ছি।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।