কাজ না করলে ভাত জোটে না


প্রকাশিত: ০৬:৩৪ এএম, ০১ মে ২০১৭

সোমবার সকাল ৭টা। পটুয়াখালীর লঞ্চ টার্মিনাল ঘাট থেকে খানিকটা দূরে ঠেলাগাড়ির উপর থেকে ফল পট্টির একটি দোকানের মালামাল নামাচ্ছিলেন ঘাটের দুজন শ্রমিক। এর মধ্যে একজন পটুয়াখালী লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটের শ্রমিক আবদুল ওয়াদুদ হাওলাদার। তিনি শহরের মাছপট্টি বস্তিতে বসবাস করেন।

শ্রমিক ওয়াদুদের কথা বলার সময় নেই। এক সপ্তাহ পর এক সপ্তাহ ডিউটি তাদের। শহরের অনেক দোকানের মালামাল ঘাটে পড়ে আছে। এ মালামাল নামিয়ে ওইগুলো দিয়ে আসতে হবে তার।

Patuakhali

এই প্রতিবেদক কথা বলার জন্য সময় চাইলে ওয়াদুদ বলেন, যত দিবস হউক আর যত যাই হউক, কাম না করলে কেউ কিছু খাওয়াবেন না। তাই কাজ করি, টাকা পামু। টাকা পাইলে আজ সংসারে ভাত খাওয়াতে পারমু।

পরে ওয়াদুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় বাড়ি তার। পরিবার বলতে এক স্ত্রী, দুই মেয়ে। নিজে কষ্ট করলেও স্বপ্ন দেখেন মেয়েকে মানুষের মত মানুষ বানিয়ে দেশের কাজে নিয়োজিত করার। পটুয়াখালীর লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটের শ্রমিক হিসেবে কাজ করলে দৈনিক ২৫০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন তিনি।

Patuakhali

এ সময় কথা হয় আরেক শ্রমিক সুমন ফকিরের (৩৫) সঙ্গে। তিনি জানান, স্ত্রী ও তিন ছেলে-মেয়ে নিয়ে সংসার তার। বাবা-মা থাকলেও তারা নিজেরা কাজ করেন বলে তাদের খরচ বহন করতে হয় না। তবে প্রতিদিন সকালের আলো ছড়িয়ে পড়ার আগেই লঞ্চ ঘাট থাকতে হয় তাকে। সকালে লঞ্চ ঘাটে এলে আয় রোজগার ভালো হয় বলে জানান সুমন।

এরপর পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার মৌকরন এলাকার বাসিন্দা শ্রমিক জালালের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, সকালে কাজে না আসলে এক মুঠো চাল কেনার উপায় নেই। চার সদস্যের পরিবার তার।

জালাল বলেন, সপ্তাহে তিন-চারদিন কাজ জুটলেও তা দিয়ে সংসার চলে না। তাই আল্লাহর ওপর নির্ভর করেই থাকতে হয়। একমাত্র তিনিই চালিয়ে নেন।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/আরএআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।