‘অপারেশন সান ডেভিল’ সমাপ্ত

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:৫৩ এএম, ১২ মে ২০১৭

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার হাবাসপুরের জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের ‘ অপারেশন সান ডেভিল’ শেষ হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান সমাপ্তের ঘোষণা দেন পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক নিশারুল আরিফ। জঙ্গি আস্তানার পাশেই গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফ করেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে নিশারুল আরিফ বলেন, পাঁচটি মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আস্তানার চারটি কক্ষ থেকে ১১টি বোমা, একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, দুটি সুইসাইডাল ভেস্ট, গান পাউডার ও দুটি জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, বোমাগুলোর একটি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বোমা বিশেষজ্ঞ দল। এছাড়া ১০টি বোমা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বাড়ির ভেতরে নতুন করে কারো মরদেহ পাওয়া যায়নি। অভিযানে নিহতরা সবাই মারা গেছেন আত্মঘাতী বিস্ফোরণে। এদের মধ্যে একজন বহিরাগত যুবক আশরাফুল (২৫)। তিনি আইটি বিশেষজ্ঞ ছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্ত।

অভিযানে নিহত অন্য জঙ্গিরা হলেন- গৃহকর্তা সাজ্জাদ হোসেন (৫০), তার স্ত্রী বেলি আক্তার (৪৫), ছেলে আল-আমিন (২৫), মেয়ে কারিমা খাতুন (১৭)।

অভিযানের শুরুতেই বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে মারা যান তারা। তার আগেই জঙ্গিরা মারাত্মকভাবে কুপিয়ে যখম করে দমকল কর্মী আব্দুল মতিনকে। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মারা যান মতিন।

raj

পুলিশ বলছে, সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী বেলী আক্তার কুপিয়ে হত্যা করেছেন দমকল কর্মী আব্দুল মতিনকে। আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন অন্যরা। এ সময় সাজ্জাদের আরেক মেয়ে সুমাইয়া দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে বসে তা দেখছিলেন। এর তিন ঘণ্টা পর তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

অন্যদিকে, প্রায় ২৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে আত্মঘাতী পাঁচ জঙ্গির মরদেহ। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাড়িটির পাশের কেটে নেয়া ধানখেত থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ছয়জন সুইপার কাজ শুরু করেন।

ব্রিফিং শেষে দুপুর দেড়টার দিকে দুটি ভটভটিতে করে মরদেহ নেয়া হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে। সেখানেই মরদেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা।

গোদাগাড়ী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া আত্মসমর্পণ করা নারী জঙ্গি সুমাইয়া তাদের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে নিয়ে অভিযানে নামার প্রস্তুতিও চলছে।

গত বুধবার রাত ১টা থেকে এই অভিযান শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ওই আস্তানা থেকে কয়েকজন নারী-পুরুষ হঠাৎ বেরিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এক পর্যায়ে তারা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় জঙ্গিরা মারাত্মকভাবে কুপিয়ে যখম করে দমকল কর্মী আব্দুল মতিনকে। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মারা যান মতিন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে স্থানীয় গোরস্থানে মতিনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এনিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করে ঘটনা খতিয়ে দেখছে ফায়ার সার্ভিস।

ফেরদৌস সিদ্দিকী/এফএ/আরএআর/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।