বিলীন হওয়ার আতঙ্কে কাঁদছে সিংপুরবাসী


প্রকাশিত: ১১:৪৬ এএম, ২২ মে ২০১৭

ঘোড়াউত্রা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার সিংপুর গ্রাম। একদিকে হাওরে ফসল ডুবির পর মানুষের ঘরে খাবার নেই। কাজ না পেয়ে মানবেতন জীবন-যাপন করছে শ্রমজীবী মানুষ। সেই সঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আতঙ্কে কাঁদছে পুরো গ্রামবাসী।

এমন দুর্দিনে নদীভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়ছে সিংপুরবাসী। বানের পানি কিছুটা কমার পর ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে সিংপুরবাসীর। ভাঙন থেকে হাওরবাসীকে রক্ষায় নেই সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ।

হাওরবাসীর দুর্দশা যেনো কাটছেই না। আগাম বন্যায় ফসলডুবিতে এমনিতেই দিশেহারা মানুষ। ঘরে খাবার নেই। হাতে নেই কাজ। এমন পরিস্থিতিতে নিকলী উপজেলার প্রাচীন জনপদ সিংপুর গ্রামে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। ঘোড়াউত্তা নদীর ভাঙনে প্রতিদিন ঘরবাড়ি হারাচ্ছে মানুষ। এরই মধ্যে শত শত ঘরবাড়ি চলে গেছে নদীর পেটে। জমির ফসল আর বসতবাড়ি হারিয়ে বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিতে এলাকা ছাড়ছেন কেউ কেই ।

সিংপুর গ্রামের বৃদ্ধা আম্বিয়া খাতুনের পেটে ভাত নেই। চোখের পানি টলমল করছে। ছেলে আর ছেলের স্ত্রীকে নিয়ে সিলেটে ইটখোলায় কাজ করতেন। তিন মাস আগে তিনি দেশে ফিরেছেন। কিন্তু জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ায় সন্তানদের নিয়ে ঘোর বিপদে পড়েছেন। এরই মধ্যে নতুন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে নদীভাঙন।

Kishoreganj

পাশেই নদী পাড়ের রহিমা বলেন, বাবা পেটে ভাত নাই। চুলায় আগুন জ্বলে না। এমন অবস্থায় নদী ভেঙে নিচ্ছে ঘরবাড়ি। ছেলে-মেয়ে নিয়ে এখন কোথায় যাব?

সিংপুর গ্রামে গিয়ে এমন আহাজারি চোখে পড়েছে। বিপদ যেনে তাদের পিছু ছাড়ছে না। ওই গ্রামের স্কুল শিক্ষক মো. রাসেল জানান, এক সময় এই গ্রামে ২০ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। কিন্তু ঘোড়াউত্রা নদীর অব্যাহত ভাঙনে অর্ধেক গ্রাম হারিয়ে গেছে। এ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে ভাসমান অবস্থায় বস্তিতে বসবাস করছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রতন মিয়া জানান, সিংপুরবাসীকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে হলে গ্রামের চারদিকে পাকা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, হাওরবাসীকে ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে সরকারের কাছে বার বার দাবি জানিয়েও মিলছে না কোনো প্রতিকার। গত কয়েক বছরে সিংপুর গ্রামের অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকানো না গেলে এক সময় পুরো গ্রামটি বিলীন হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর।

Kishoreganj

সিংপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সিংপুর গ্রামে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ বসবাস করছে। গত কয়েক বছরে অব্যাহত ভাঙনে সিংপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দিরসহ অসংখ্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবিলম্বে গ্রামের চারপাশে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করে সিংপুরকে ভাঙনের কবল থেকে করতে হবে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস বলেন, নদীভাঙন একটি চ্যালেঞ্জিং ইস্যু। প্রতি বছর হাওরে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন দেখা দেয়।

তিনি বলেন, নিকলী উপজেলার সিংপুর, ছাতিরচরসহ হাওরে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। টেকসব বাঁধ নির্মাণ ও নদী শাসন করে ভাঙনকবলিত হাওরকে রক্ষায় এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এএম/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।