পবিপ্রবির ছাত্রলীগের ১২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা


প্রকাশিত: ০৯:৪২ এএম, ৩১ মে ২০১৭

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) মৃত্তিকা বিজ্ঞানের মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থীকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে পবিপ্রবির শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ রিমনসহ ১২ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেছেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা।

গতকাল মঙ্গলবার পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (১ম) পবিপ্রবির মৃত্তিকা বিজ্ঞানের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসেনের বাবা মো. আজিজ শিকদার বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বিচারক মো. আমিনুল ইসলাম মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুমকি থানা পুলিশের ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যান্য আসামিরা হলেন পবিপ্রবির শিক্ষার্থী কাওছারুজ্জামান সুমন (কৃষি, ৭ম সেমিস্টার), বাদল শীল (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ৭ম সেমিস্টার), আরাফাত ইসলাম সাগর (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ৩য় সেমিস্টার), আরিফুল ইসলাম (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ৩য় সেমিস্টার), গোলাম রব্বানী সুহৃদ (কৃষি, ৫ম সেমিস্টার), সৌরভ কর্মকার (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ৭ম সেমিস্টার), শাকিল বারী তানিম (বিবিএ, ৭ম সেমিস্টার), এসএম সাব্বির (ভূমি ব্যবস্থাপনা, ৩য় সেমিস্টার), মিরাজ হোসেন (দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ৭ম সেমিস্টার), কামরুল হাসান মুন্না (শ্রীরামপুর, দুমকি) ও মো. রিয়াজ হোসেন (কৃষি, ৩য় সেমিস্টার)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে সন্ধ্যায় পবিপ্রবির দ্বিতীয় গেট এলাকায় আসামিরা রড, রামদা ও লোহার পাইপ নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আল আমিনের ওপর অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

এ সময় আলামিনের বন্ধু-বান্ধবরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তদের ওপর হামলা চালায় আসামিরা। হামলাকারীরা আলামিনের গলায় থাকা ১টি স্বর্ণের চেইন, হাতে থাকা ১টি স্বর্ণের আংটি ও নগদ টাকাসহ মোট ১ লাখ ১৮ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে চলে যায়।

রক্তাক্ত জখম অবস্থায় আল আমিনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থায় আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরবর্তীতে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্থানীয়দের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জের ধরে ২১ মে সন্ধ্যায় স্থানীয় (পবিপ্রবিতে অধ্যয়নরত দুমকি উপজেলার বাসিন্দা) শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালায়।

এ ঘটনায় এক সাংবাদিকসহ মোট ১০ জন আহত হয়। ধারল অস্ত্রের আঘাতে আলামিন হোসেনের কান কেটে যায়। পবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ রিমনের প্রত্যক্ষ মদদে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আহতদের অভিযোগ।

এ বিষেয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত পবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রায়হান আহমেদ রিমন বলেন, রাজনৈতিকভাবে শত্রুতা বসত মামলাটি করা হয়েছে। এই মামলার কোনো ভিত্তি নেই। এরপর আইনগতভাবে এর সমাধানের চেষ্টা করবো।

মহিব্বুল্লাহ চৌধুরী/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।