এক ওসির বদলিতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশে স্বস্তি
অবশেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈনুর রহমানকে রংপুর রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। গতকাল বুধবার (৩১ মে) তাকে রংপুর রেঞ্জে বদলি করে পুলিশ সদর দফতর থেকে একটি আদেশ জারি করা হয়।
বেশ কদিন ধরেই ওসি মঈনুরের বদলি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। এ নিয়ে এক মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গুরুত্বপূর্ণ তিন থানার চার ওসিকে বদলি করা হলো। তবে ওসিদের এক থানায় দেড় বছর থাকার নিয়ম এবং জেলার বাকি থানাগুলোর ওসিদের দেড় বছর পূর্ণ না হওয়ায় সহসায় আর কোনো ওসি বদলি হচ্ছেন না বলে পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছে। কিন্তু ওসি মঈনুরের বদলিতে জেলা পুলিশে এখন অনেকটাই স্বস্তি ফিরে এসেছে।
হুট করে ওসিদের বদলির ঘটনা নিয়ে গত ১৭ মে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশে অস্থিরতা’ শিরোনামে জাগো নিউজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১ মে জেলার নবীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদ ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মেজবাহ্ উদ্দিন আহমেদকে প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে একসঙ্গে বদলি করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। তাদের স্থলে পদায়ন করা হয় আসলাম শিকদার ও নাজির আহমেদ নামে দুই পুলিশ পরিদর্শককে (ইনস্পেক্টর)।
অচমকা এক থানার দুই ওসি বদলির রেশ কাটতে না কাটতেই আশুগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকেও বদলি করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। গত ১২ মে তার স্থলাভিষিক্ত হন সমালোচিত ইনস্পেক্টর বদরুল আলম তালুকদার।
কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানা থেকে প্রত্যাহার হওয়া এই ওসির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, ক্রসফায়ারে হত্যা ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ অনেক অভিযোগ রয়েছে। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ঢুকেই আশুগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্ব নিতে মরিয়া হয়ে উঠেন সমালোচিত এই ইনস্পেক্টর। এজন্য তিনি জেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে মোটা অংকের অর্থ চুক্তিও করেন বলে গুঞ্জন শুরু হয়।
মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে তিন ওসির বদলির ঘটনায় জেলার বাকি থানার ওসিদের মনেও তখন সংশয় দেখা দেয় টাকার জোরে কখন না আবার তাদের চেয়ারও অন্য দখল করে নেন!
এদিকে নিয়ম অনুযায়ী গুরুতর কোনো অভিযোগ না থাকলে এক থানায় ওসির দেড় বছর থাকার কথা থাকলেও ১৫ মাস মেয়াদেই স্বেচ্ছায় ঢাকা রেঞ্জে বদলি আবেদন করে পুলিশ বিভাগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেন ব্রাহ্মণাবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মো. মঈনুর রহমান। মূলত চেয়ার সামলাতে টাকার অংকের বেসামাল প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবেন না বলেই তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন ‘জনবান্ধব’ এই ওসি।
ওসি মঈনুরের বদলির আবেদনের পর থেকেই সদর মডেল থানার ওসি হওয়ার জন্য চট্টগ্রাম রেঞ্জ অফিসে জোর তদবির-লবিং শুরু করেন কয়েকজন পুলিশ পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর)। অবশেষে বুধবার (৩১ মে) ওসি মঈনুরকে তার কাঙ্ক্ষিত ঢাকা রেঞ্জের বদলে রংপুর রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
তবে সদর মডেল থানার ওসি হিসেবে এখনো পর্যন্ত কাউকে পদায়ন করা হয়নি। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মেজবাহ্ উদ্দিন ভূঁইয়াই নতুন ওসির পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত থানার দায়িত্বে থাকবেন বলে জানা গেছে।
হুট করে দুই থানার তিন ওসির বদলি ও সদর মডেল থানার ওসি মঈনুরের স্বেচ্ছায় বদলির আবেদনের ব্যাপারে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে জানিয়েছিলেন, আমাদের প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী দেড় থেকে দুই বছর হলে থানার ওসি বদল করা হয়। তাছাড়া গতিশীলতা আনার জন্য অনেক কিছুই পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। তবে সদর মডেল থানার ওসি কেন স্বেচ্ছায় বদলির আবেদন করেছেন সেটি আমার জানা নেই।
আজিজুল সঞ্চয়/এফএ/আরআইপি