কাহারোলে ২৮ দিন পর যুবকের মরদেহ উত্তোলন


প্রকাশিত: ০১:৪৬ পিএম, ১১ জুন ২০১৭

পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৮ দিন পর পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য বাবুল হোসেনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করেছে পুলিশ।

রোববার সাড়ে ১১টার দিকে কাহারোল থানাধীন সুন্দরপুর গ্রামের ছলে মেম্বারপাড়ার পারিবারিক কবরস্থান হতে মৃত বাবুল হোসেনের মরদেহ উত্তোলন করে পুলিশ।

মরদেহ উত্তোলনের সময় মৃত বাবুল হোসেনের পরিবারের লোকজনসহ কাহারোলের ৫নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সদস্য শরিফ উদ্দিন, ৩নং ওয়ার্ড সদস্য আসাদুল ইসলাম, ৮নং ওয়ার্ড সদস্য তছির উদ্দিন, কাহারোল থানা পুলিশের এসআই মো. এরশাদ উপস্থিত ছিলেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মৃত বাবুল হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়।

কর্তব্যরত নির্বাহী মেজিস্ট্রেট যোবায়ের হোসেনকে এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশে আমরা মরদেহ উত্তোলন করতে এসেছি। এখন ময়নাতদন্ত করা হবে। তারপর হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

মরদেহ উত্তোলনের পর কর্তব্যরত এসআই মো. আজাদকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের পর সবকিছু জানা যাবে। তবে তিনি বলেন, মরদেহের ডান হাতে এবং ডান হাতের বগলের উপরে ও নিচে আঘাতের চিহ্ন আছে।

নিহত বাবুলের স্ত্রী কুলসুমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি আমার স্বামীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সকলেরই সর্বোচ্চ বিচার চাই।

এদিকে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. আমির উদ্দীন মৃত বাবুল হোসেনের মরদেহের ময়নাতদন্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মে মো. মকসেদ আলীর ছেলে বাবুল হোসেন একই উপজেলাধীন মানগ্রামের ইয়াজ উদ্দিনের ছেলে আসামি মো. রহিদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে কীটনাশক ও বীজের বকেয়া টাকা উত্তোলনের জন্য কাহারোল বাজারে জনৈক সামাদের কাছে যান।

সেখানে দৃর্বৃত্তরা বাবুলের ডান হাতের বাহু ও বগলের উপরে ও নিচে ধারাল চাকু দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত ও জখম করে। সংবাদ পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।

পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বাবুলকে ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ মে তার মৃত্যু হয়।

এরপর বাবুলের মরদেহ ঢাকা পুলিশের অনুরোধে কাহারোল নিয়ে যাওয়া হয় এবং কাহারোল পুলিশের নির্দেশে কোনো রকম ময়নাতদন্ত ছাড়াই বাবুলকে দাফন করা হয়।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।