শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে ১১১৪ বস্তা সামগ্রী আটক
বগুড়ায় ভ্যাট শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কর্মকর্তারা এক হাজার ১১৪ বস্তা প্লাস্টিক তৈরির সামগ্রী আটক করেছে। এ ঘটনায় শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে দুটি বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট রাজশাহীর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, বুধবার সকালে বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া এলাকায় দি নিউ চান্দা ট্রান্সপোর্টের গোডাউন থেকে মালামাল আটক করা হয়। অভিযানে র্যাব ও পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করে।
তিনি বলেন, বগুড়া শহরের বিসিক শিল্পনগরীসহ আশেপাশের এলাকায় প্লাস্টিক সামগ্রী ও পলিথিন তৈরির কারখানাগুলোর মালিকেরা ঢাকা থেকে এসব মালামাল অবৈধভাবে ক্রয় করে আনেন। সান ট্রেডিং, খান ট্রেডার্স, হিমেল প্লাস্টিকস, আব্দুল মজিদ, রাজু, ফিরোজ, আব্দুল হাকিম, বাবলু, রাফুসহ ১৫টি প্রতিষ্ঠানের নামে এসব প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল ঢাকা থেকে অবৈধভাবে আনা হয়। এসব মালামালের মালিকদের বিরুদ্ধে ভ্যাট ও শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে পৃথক দুটি বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বিসিক শিল্পনগরীর হিমেল প্লাস্টিকস এর মালিক আলিনুর জানান, তিনি ঢাকার সাদিয়া ও সাদ ইন্টারন্যাশনাল থেকে মালগুলো বৈধভাবে কিনেছেন।
আটাপাড়া এলাকার ফিরোজ নামের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কারখানার মালিক জানান, তিনি ঢাকার আফ্রিনা ইন্টারন্যাশনাল ও কাশেম ট্রেডার্স থেকে মালামাল কিনেছেন। মালামালের সঙ্গে ভ্যাট ও ট্যাক্সের কাগজ না থাকায় আমাদের মালগুলো আটক করা হয়েছে। আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য ঢাকায় যোগাযোগ করছি।
কাস্টমস, এক্সসাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট রাজশাহীর ডেপুটি কমিশনার (কাস্টমস) নুর উদ্দিন মিলন জানান, সরকার বন্ড লাইসেন্সের মাধ্যমে প্লাস্টিক কারখানাগুলোকে বিনা ভ্যাট ও শুল্কে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিয়েছে। এসব প্লাস্টিক সামগ্রী উৎপাদন করে বিদেশে প্লাস্টিক সামগ্রী রফতানি করবে এমন শর্তেই ভ্যাট ও শুল্ক ছাড়া সরকার তাদের এ সুযোগ দিয়েছে। কোনো মালিক তার অতিরিক্ত কাঁচামাল রয়েছে এমন বিষয়ে কমিশনারের কাছে আবেদনের মাধ্যমে ভ্যাট ও ট্যাক্স দিয়ে তা বাইরে বিক্রি করতে পারে। তবে এটা বিশেষ ক্ষেত্রে। বগুড়ায় বছরে প্রতিটা দিনেই প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরি হচ্ছে। এসব কাঁচামালের বৈধতা নেই। এসব কারখানা অবৈধভাবে ঢাকা থেকে কাঁচামাল কিনে সরকারের ভ্যাট ও ট্যাক্স ফাঁকি দিচ্ছে।
এমএএস/জেআইএম