খুলনায় ট্রেনের টিকেট উধাও!
তিন দফা দাবিতে ষষ্ঠ দিনের মতো খুলনা-আরিচা-ঢাকা রুটে দূরপাল্লার পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। বাস ধর্মঘটের চাপ পড়ছে ট্রেনের টিকেটের উপরে। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েও গন্তব্যের টিকেট পাচ্ছেন না অনেকেই। ফলে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের।
গত শুক্রবার থেকে আন্তঃজেলা পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বন্ধ রয়েছে আঞ্চলিক রুটের বাসগুলোও। কেউ কেউ ট্রেন ধরে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারলেও পথের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। অনেকেই বিকল্প মাধ্যম হিসেবে মাহেন্দ্র ও ইজিবাইকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাচ্ছেন। এ জন্য গুণতে হচ্ছে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ। আবার কেউ কেউ যাত্রাপথের এ যুদ্ধে হার মেনে যাত্রা বাতিল করে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
অনির্দিষ্টকালের এ পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ট্রেনই এখন দূরের যাত্রীদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিট না পেলে দাঁড়িয়েই গন্তব্যস্থলের দিকে রওনা দিচ্ছেন অনেকেই। আবার অনেকেই টিকেট না পেয়ে খালি হাতে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।
রোববার খুলনা রেলস্টেশনে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাউন্টারের সামনে টিকেট নিতে আসা ব্যক্তিদের লম্বা লাইন। এদের মধ্যে কেউ এসেছেন রোববারের টিকেট নিতে, কেউ এসেছেন সোমবারের টিকেটের জন্য আবার কেউ এসেছেন তার পরের দিনের টিকেটের জন্য। কিন্তু অসহ্য গরমে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ টিকেট প্রার্থীকেই খালি হাতে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে।
প্রায় দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকেট না পেয়েই বাড়ি ফিরে গেছেন শ্যামলী আরফিন। তিনি বলেন, লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকেট পাইনি। তিনি সোমবারে ঢাকায় যাবার একটি টিকেটের জন্য এসেছিলেন।
টিকেট নিতে আসা অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ঢাকার ট্রেনের একটি টিকেটের জন্য দুদিন ধরে ঘুরছি। কিন্তু প্রতিদিনই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কাউন্টারের বাইরে থেকে বেশি দামে এক জনের কাছ থেকে টিকেট সংগ্রহ করেছি।
এদিকে টিকেট বুকিং সহকারী জানান, বাস ধর্মঘটের কারণে ট্রেনের টিকেটের ব্যাপক চাহিদা বেড়েছে।
খুলনা বাস-মিনিবাস কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সোনা জানান, পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট খুলনা বিভাগে অব্যাহত রয়েছে। দাবি আদায়ে আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আটক দুই শ্রমিককে নিঃশর্ত মুক্তি, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) ও মধুখালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহারে দাবিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিলো। প্রশাসন তাদের দাবি না মানায় ঢাকাগামী পরিবহন ধর্মঘটের পাশাপাশি শুক্রবার থেকে আন্তঃজেলা পরিরহন ধর্মঘট পালন করছেন তারা।
আলমগীর হান্নান/এআরএ/পিআর