সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বেতন-বোনাস পাবেন মাল্টি ফ্যাবস’র শ্রমিকরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ১২:৫১ পিএম, ১৮ জুলাই ২০১৭

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের কাশিমপুর নয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেড কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে নিহত শ্রমিকদের কারখানার পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেডের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নিহত ১৩টি পরিবারের স্বজনদের কাছে ওই চেক প্রদান করা হয়। 

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর ও মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেড কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহিউদ্দিন ফারুকী এ চেক বিতরণ করেন। এসময় নিহতের প্রতিটি পরিবারের স্বজনদের হাতে ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে চেক তুলে দেয়া হয়। 

চেক বিতরণকালে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাহেনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহমুদ হাসান, গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান, কারখানার অপারেশন ডিরেক্টর মো. মেজবাহ উদ্দিন ফারুকী, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর আব্দুল কুদ্দুস, ডেনমার্কের বায়ার রেক্স হোম’র প্রতিনিধি মরিয়ম খাতুন মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক জানান, এ ধরনের দুর্ঘটনার পর অনেক কারখানার কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়। কিন্তু মাল্টি ফ্যাবস লিমিটেড কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজেরা এগিয়ে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এটা একটা শুভ লক্ষণ। এটা একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। 

কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, আজ থেকে নিহতদের পরিবারের অভিভাকত্ব গ্রহণ করলাম। নিহত ব্যক্তিরা প্রতি মাসে যে বেতন ও প্রতি ঈদে যে বোনাস পেতেন তা আমরা অব্যহত রাখবো। এ জন্য মাল্টি ফ্যাবস ফাউন্ডেশনও প্রতিষ্ঠা করা হবে। তাদের দেখা শুনার দায়িত্ব নিলাম।

তিনি বলেন, নিহত প্রতিটি পরিবারকে কারখানার পক্ষ থেকে চার লাখ টাকা এবং ডেনমার্কের বায়ার রেক্স হোম (আইডি’র) পক্ষ থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়। এ ছাড়া রফতানি বিল হতে কর্তনকৃত অর্থ যা শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে জমা হয়, সেই তহবিল থেকেও প্রত্যেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে আরও তিন লাখ করে টাকা দেয়া হবে। 

কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী শ্রম আদালতে নিহত প্রতিজনের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ আরও ১ লাখ টাকা করে জমা দেয়া হয়েছে। আহত শ্রমিকরা সম্পূর্ণ কর্মক্ষম না হওয়া পর্যন্ত তাদের চিকিৎসার ব্যয়ভার কোম্পানি বহন করার পাশাপাশি তাদের প্রতিমাসের বেতন-ভাতাদি প্রদান অব্যাহত রাখা হবে। এর আগে নিহতদের মরদেহ বহনের জন্য প্রতিজনের পরিবারকে কারখানার পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরো ২০ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এ দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের প্রতিটি পরিবার মোট ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা করে পাবেন।

গত ৩ জুলাই কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত কারখানার ১৩ জন কর্মকর্তা ও শ্রমিক নিহত এবং আরও প্রায় অর্ধশত শ্রমিক আহত হন।

আমিনুল ইসলাম/এমএএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।