সাতক্ষীরায় টানা বৃষ্টিতে ভেসে গেছে মাছের ঘের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরা
প্রকাশিত: ০২:৫১ পিএম, ২৪ জুলাই ২০১৭

টানা কয়েকদিনের বিরতিহীন অতিবৃষ্টিতে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত কয়েকদিনের হালকা থেকে ভারি বর্ষণে ডুবে গেছে জেলার বিল খাল ও পুকুর। জেলার নিম্নাঞ্চলের অনেক মাছের ঘের ও পুকুর ভেসে গেছে।

এদিকে, সাতক্ষীরা সদরের বেতনা নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা আর তালা ও কলারোয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদ দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এর মূল কারণ হিসেবে মনে করছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় অনেক নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে।

তালায় টানা কয়েকদিন প্রবল বর্ষণে আমন বীজতলা, মৎস্য ঘের, পুকুর-জলাশয়, সবজির আবাদসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে তালা সদরের খড়েরডাংগা, শিবপুর থেকে ডুমুরিয়া কুলবাড়িয়া পর্যন্ত পানি নিষ্কানের কপোতাক্ষের বিকল্প খালটি সচল রাখতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী।

তালা সদর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এস.এম নজরুল ইসলাম জানান, তালা-ডুমুরিয়া সীমান্তে জেয়ালা ঘোষপাড়া-চন্ডিপুর সরকারি খালের ওপর বাঁধ নির্মাণ করে কতিপয় মাছচাষি মাছচাষ করছে। ফলে প্রতি বছরই তালা, ইসলামকাটি, কুমিরা, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নেরর অধিকাংশ গ্রাম বছরের অর্ধেকটা সময় পানিতে ডুবে থাকে।

তিনি বলেন, স্থানীয় অনেক মানুষ মারা গেলে বিভিন্ন জেলায় নিয়ে দাফন করতে হয়েছে। তবে চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে সমঝোতার মাধ্যমে তালা-ডুমুরিয়ার সীমান্তের বাঁধটি কেটে ব্রিজ করে দেয়া হয়। পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয় তিনটি ব্রিজ। তার কারণে অতিবৃষ্টি হলেও এখনো এসব এলাকা জলাবদ্ধতা মুক্ত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রশাসন যদি খালটি সচল না রাখে তবে যেকোনো মুহূর্তে আবারও প্লাবিত হবে তালার বিস্তীর্ণ জনপদ।

তালা উপজেলা পরিষদের মধ্যেই জলাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবছর জলাবদ্ধতা প্রায় নেই বলা যায়। বৃষ্টির পানি যেটুকু হচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে পানি বিকল্প পথ দিয়ে নিষ্কাশিত হয়ে যাচ্ছে। তবে মাগুরার চাঁদকাটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কলারোয়া থেকে জুলফিকার আলী জাগো নিউজকে জানান, কলারোয়া উপজেলার কপোতাক্ষ তীরবর্তী এলাকা দেয়াড়া, কাশিয়াডাঙ্গা, ঘোষনগর এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। কপোতাক্ষ নদ দিয়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। পাশাপাশি বেত্রাবতী হাই স্কুলটি একেবারেই পানিতে নিমজ্জিত। ক্লাসরুমে পানি ঢুকে গেছে। বিদ্যালয়টি আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কপোতাক্ষ পাড়ের কিছু মানুষের বাড়িতেও পানি উঠেছে। যেকোনো মুহূর্তে যাতায়াত ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।

জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। পাশপাশি বৃষ্টিতে এখনও তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। কোথাও জলাবদ্ধতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আকরামুল ইসলাম/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।