পেঁপের ফলনে অভিভূত শিক্ষক ফরিদ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৪:৩৮ এএম, ১৩ আগস্ট ২০১৭

পটুয়াখালীর বাউফলের মেহেন্দীপুর গ্রামের ছেলে ফরিদ উদ্দিন। পেশায় একজন মাদরাসা শিক্ষক। স্থানীয় বাজেমহল ওবায়দিয়া ফাজিল মাদরাসায় আরবি প্রভাষক হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করছেন ফরিদ উদ্দিন। সংসারের খরচ মেটাতে বাড়তি আয়ের আশায় শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়াতে শুরু করেন তিনি। একসময় সখের বসে পৈত্রিক সম্পত্তির প্রায় ১শ শতাংশ পতিত জমির ওপর গড়ে তোলেন সবজির বাগান।

সবজির বাগানে কয়েকটি পেঁপে গাছও রোপন করেন তিনি। এতে ভালো ফলন হওয়ায় শতাধিক পেঁপে গাছের বাগান করেন তিনি। পেঁপে বাগান করার কয়েক মাস যেতে না যেতেই তার গাছে সাদা ফুল ফুটতে শুরু করে। এ দৃশ্য দেখে ফরিদ উদ্দিনের মুখেও ফোটে আনন্দের হাসি। বর্তমানে তার পেঁপে বাগানের শতাধিক গাছে আগাগোড়া পেঁপে ঝুলছে।

ফরিদ উদ্দিনের খামারের বোম্বাই মরিচ, ঝিঙা, শশা, করলা, কলমি শাক, পুঁইশাক, চালকুমরা, ধুন্দল, ঢেড়সসহ নানা ধরনের গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজি নজর কেড়েছে স্থানীয়দের। এসব শাকসবজির ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। তার খামারের শাকসবজি বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় সিকদারের বাজার, চৌমোহনী বাজার, মৃধার বাজার, মমিনপুর বাজার, কালিশুরী বন্দরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে। শাক-সবজিতেই এখন সংসারের অধিকাংশ খরচ চলছে তার।

Patuakhali2

শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন বলেন, খামারের গাছপালাগুলোকে মাদরাসার ছেলেমেয়েদের মতো পরিচর্যা করতে হয়। তাই ছুটির পরে অবসর সময়ে নিড়ানি হাতে নিয়মিত খামারে কাজ করি। এছাড়াও কাজের চাপ বাড়লে মাঝে মধ্যে দুই-একজন শ্রমিকও লাগাতে হয়। এই প্রথমবারের মতো বাগানে স্থানীয় জাতের পেঁপের চাষ করেছি। পেঁপে গাছে ব্যাপক ফলনও ধরেছে। চলতি মৌসুমেই পুঁইশাক, করলা, মরিচ, ঝিঙা, শশা, কলমীশাক, ডাটাশাক, পাটশাক, বেগুনসহ বিভিন্ন শাকসবজি বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় হয়েছে।

বাগানের খরচ সম্পর্কে তিনি বলেন, পেঁপের বীজে সারে সাতশ টাকা ছাড়াও প্রতি মাদায় ১৮-২০ কেজি গোবর সার, হাসমুরগীর বিষ্টা, বাঁশের খুঁটি বাবদ খরচ হয় প্রায় আট হাজার টাকা। কেঁচো কম্পোস্ট, ভার্মি কম্পাস্টের সঙ্গে সহনীয় মাত্রায় ব্যাবহার করেছেন টিএসপি, দস্তা ও ব্রোনের মতো রাসয়নিক সার। কোনো রকম বিপদ-আপদ না হলে শতাধিক গাছের প্রতিটি থেকে কমপক্ষে দুই থেকে আঁড়াই মন পেঁপে পাবেন বলে আশাবাদি তিনি।

এসময় ফরিদ উদ্দিনের পেঁপে বাগান দেখতে আসা স্থানীয় মন্টু মিয়া ও জমির হোসেন বলেন, আমারও পারিবারিক স্বচ্ছলতা আনতে বাড়ির আশপাশে কিংবা রাস্তার পাশের পড়ে থাকা পতিত জমিতে এ ধরনের পেঁপে বাগান করব।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সারোয়ার জামান বলেন, অন্য পেশার পাশাপাশি ঘরে ঘরে শিক্ষিত লোকজনের কৃষি কাজে এগিয়ে আসা উচিত। এ অঞ্চলে পেঁপে বাগানের মাধ্যমে এমনই উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন প্রভাষক ফরিদ উদ্দিন।

মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।