উপকূলের হুমকি বাল্কহেড ড্রেজার
উপকূলের বিভিন্ন নদ-নদী থেকে অবৈধভাবে বাল্কহেড ড্রেজারের মাধ্যমে বালি উত্তোলন করায় ওইসব নদী তীরবর্তী এলাকাগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় বসতবাড়ি, মসজিদ, মন্দিরসহ এলাকার কাঁচা পাকা স্থাপনাসমূহ রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। সম্প্রতি এসব অবৈধ ড্রেজার বন্ধে জেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও আরো কার্যকর পদক্ষেপ আশা করছেন এসব এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা।
সরজমিনে দেখা গেছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে ছোট হচ্ছে লোহালিয়া ইউনিয়নের পরিধি। দীর্ঘদিনের এই ভাঙনের ফলে ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ, এলজিইডির পাকা সড়কসহ স্থানীয়দের কয়েকশ বসত বাড়ি, গাছপালাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিলীন হয়েছে।
বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে একাধিক হাট-বাজার। তবে বর্তমানে সেই ভাঙন কবলিত এলাকার জন্য এখন নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ বাল্কহেড ড্রেজার। কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে একটি অশাধু চক্র ভাঙন কবলিত এলাকা থেকে নদীর বালি উত্তোলন করায় ভাঙন আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। এসব ড্রেজারের উৎপাত বন্ধে বিভিন্ন সময় এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলেও, কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। উল্টো তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি প্রদান করা হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
সদর উপজেলার লোহালিয়া গ্রামের সজিব বিশ্বাস কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের যে জমি ছিল সব নদীতে নিয়া গ্যাছে। আবার সেই ভাঙনের কাছ দিয়া ড্রেজার বালি কাটতে আছে। আমরা নিষেধ করছি আমাগো ড্রেজারের লোকেরা হুমকি দেয়। আমাদের কিছু থাকবে না সব ভাইঙ্গা যাইবে।
-20170821104903.jpg)
সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের পালপাড় গ্রামের রমিজ মিয়া জানান, জমি-জমা প্রায় নদীতে গেছে। আর যা আছে সেটাও যাবে।
জানা গেছে, শুধু লোহালিয়া নদীতেই নয় জেলার পায়রা নদী, তেতুলিয়া, বুড়া গৌড়াঙ্গসহ বিভিন্ন ছোট বড় নদীর অন্তত ২৫টি স্টপে এসব অবৈধ বাল্কহেড ড্রেজার দিয়ে বালি উত্তোলন করছে একটি সিন্ডিকেট। বিশেষ একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তারা কাজ করায় জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আগেই অনেক সময় তারা শটকে পরেন। আর অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন করতে পারায়, জেলা প্রশাসনের বৈধ বালু মহাল ইজারা নিতেও তেমন একটা আগ্রহ থাকে না এসব বাল্কহেড মালিকদের।
-20170821104926.jpg)
তবে সম্প্রতি লোহালিয়া নদীতে অভিজান চালিয়ে এই চক্রের সাতজনকে আটক করে কারাদণ্ড, আর্থিক জরিমানাসহ বাল্কহেড বাজেয়াপ্ত করা হয়।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার রবিউল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, অবৈধ ভাবে বালি উত্তোলন রোধে জেলা প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অবৈধ বাল্কহেড ড্রেজারের উৎপাত বন্ধ করে জেলার বিভিন্ন নদী তীরবর্তী এলাকাকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় প্রশাসন আরও কার্যকরী উদ্দোগ নেবে এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।
মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/জেআইএম