পরকীয়ায় জড়িত সন্দেহে চুল কেটে দেয়ার অভিযোগ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পরকীয়ায় জড়িত সন্দেহে নাজমা বেগম (৩৫) নামের এক নারীর মাথার চুল কেটে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার দুপুরে ঘাটাইল পৌরসভার ৭ ওয়ার্ডের খরাবর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতিতা ওই নারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিন নারীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন পশ্চিমপাড়া গ্রামের বীনা বেগম, জেরিন ও লাবনী।
পুলিশ ও নির্যাতিতার দেয়া তথ্যে জানা যায়, নির্যাতিতার স্বামী সৌদি প্রবাসী ইমরান হোসেনের বাড়ি সখিপুর উপজেলার বহেরাতৈল যুগির কোফা গ্রামে। তার বাবার বাড়ি ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের শরিফবাড়ি গ্রামে। এ দম্পতির দুটি সন্তান ছিল। সন্তান দুটির অকাল মৃত্যুতে একা হয়ে পড়ে নাজমা বেগম।
পরে স্বামীর সহযোগিতায় দুই বছর আগে ঘাটাইল পৌরসভা এলাকার খরাবর গ্রামে একটি ভাড়া করা বাসায় বসবাস করছেন সে। সোমবার দুপুরে তার ভাড়া বাসায় নির্যাতিতা নাজমার সঙ্গে প্রতিবেশী বাবলুর পরকীয়া সম্পর্ক আছে অভিযোগ তুলে শাসাতে আসেন বাবলুর স্ত্রী বীনা বেগম, মেয়ে জেরিন ও ভাতিজি লাবনী।
এক পর্যায়ে তারা নাজমাকে ঘরে আটকে রেখে মারধর করে এবং জোরপূর্বক কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে দেয়। এ সময় নির্যাতিতা নাজমার ডাক চিৎকারে প্রতিবেশী মনোয়ারা, আমিনা বেগম, নাহিদা, রতনসহ আরও অনেকে এগিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত তিন নারীকে আটক করে।
আটকের খবর পেয়ে তার স্বজনরা স্থানীয় দুই পৌর কমিশনারের সহায়তায় ওই তিন নারীকে জোড় করে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে ঘাটাইল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্যাতিত নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে অভিযুক্ত তিন নারীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত বাবলুর স্ত্রী বীনা বেগম, ভাতিজি জেরিন ও লাবনীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আফজাল হোসেন জানান, অভিযুক্ত তিন নারীকে আটক করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
আরিফ উর রহমান টগর/বিএ