মিয়ানমারের কাছ থেকে ১৫০ বাংলাদেশিকে গ্রহণ করছে বিজিবি
মিয়ানমার উপকূল থেকে ২১ মে উদ্ধার ২৮৪ জন অভিবাসীর মাধ্যে ১৫০ জন বাংলাদেশি বলে সনাক্ত হয়েছে। পরিচয় সনাক্ত হওয়া এসব অভিবাসীকে সোমবার সকালে বিজিবি’র কাছে হস্তান্তর করবে মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)।
উখিয়ার ঘুনধুম সীমান্ত দিয়ে এসব বাংলাদেশিকে ফেরত আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। কক্সবাজার ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল খন্দকার সাইফুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় বঙ্গোপসাগরে ভাসমান ট্রলারসহ ২৮৪ জনকে গত ২১ মে মিয়ানমার উপকূল থেকে সেদেশের নৌ-বাহিনী উদ্ধার করে। উদ্ধার অভিবাসন প্রত্যাশীদের মাঝে ২০০ জন বাংলাদেশি দাবি করে তাদের গ্রহণ করতে বিজিবির কাছে পত্র পাঠায় মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি)।
তবে সেসময় সঠিক তালিকা দিতে না পারায় বিজিবি প্রতিনিধিদল মিয়ানমার যাবার প্রস্তুতি নেয়ার পরও তা বাতিল করে।
ইতোমধ্যে মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও আর্ন্তজাতিক সাহায্য সংস্থার প্রতিনিধিরা এসব অভিবাসীদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে। এদের মাঝে ১৫০ জন বাংলাদেশির তালিকা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে তা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদুত ও সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব অভিবাসীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেয়ার কথা জানান।
তথ্য মতে, ১৫০ জন বাংলাদেশির মধ্যে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার ৩৪ জন, নরসিংদীর ৫৫ জন, চট্টগ্রামের ৮ জন, বান্দরবানের ১০ জন, ঝিনাইদহের ১২ জন, পাবনার ৫ জন, চুয়াডাঙ্গার ৪ জন, বাগেরহাটের ৪ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬ জন, সুনামগঞ্জের ৪ জন, নারায়ণগঞ্জের ২ জন, টাঙ্গাইলের ৩ জন, যশোরের ২ জন ও কুমিল্লার ১ জন রয়েছে।
বিজিবি কক্সবাজারস্থ সেক্টর কমান্ডার কর্নেল খালেকুজ্জামান পিএসসি জাগো নিউজকে বলেন, মিয়ানমার থেকে প্রেরিত তালিকা যাচাই বাছাই করে প্রাথমিক ভাবে ১৫০ জনকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে ঘুনধুম সীমান্তে নোম্যান্স ল্যান্ডে বিজিবি ও বিজিপির মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এসব বাংলাদেশিদের মিয়ানমার থেকে ফেরত আনার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
অপর দিকে, অসমর্থিত এক সূত্র জানায়, আন্দামান সাগর থেকে মিয়ানমার কর্তৃক ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা ৭৩৩ জন অভিবাসীকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি একাধিক স্থানে ভাগ করে রাখা হয়েছে। সুবিধামতো সময়ে তাদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করার চেষ্টা চালানোর আশংকায় সীমান্তে বিজিবি-কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর বিশেষ সতর্কাবস্থা রয়েছে বলে বলে জানা গেছে।
সায়ীদ আলমগীর/এসএইচএস