বরিশাল বিভাগীয় জাদুঘরের উদ্বোধন করলেন সংস্কৃতি মন্ত্রী


প্রকাশিত: ০৭:৩২ এএম, ০৮ জুন ২০১৫

বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বরিশাল বিভাগের একমাত্র জাদুঘরের উদ্বোধন হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফলক উম্মোচনের মধ্য দিয়ে বরিশাল জাদুঘরের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি।

উদ্বোধনী বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি বলেন, আমাদের দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য অটুট রাখার জন্য বরিশালে বিভাগীয় জাদুঘরের দ্বার উন্মোচিত হলো। সরকারের কর্মসূচি অনুযায়ী তাদের লক্ষ্য হলো এই বিভাগের প্রত্নতত্ত্ব সংগ্রহ করে মানুষের কাছে ইতিহাসকে তুলে ধরা।

তিনি আরো বলেন, জাদুঘরের দেখাশোনার জন্য জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদফতরের মহাপরিচালক শিরিন আখতার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেসা আফরোজ, বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক শহিদুল আলম।  অনুষ্ঠানে অন্যান্যে মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালক মো. আমিরুজ্জামান ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের সহকারী পরিচালক একেএম সাইফুর রহমান প্রমুখ।

পরে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর জাদুঘরের গ্যালারিগুলো ঘুরে দেখেন।

প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদফতরের আঞ্চলিক পরিচালক মো. আমিরুজ্জামান জানান, ১৮৮১ সালে নির্মিত বরিশাল পুরাতন কালেক্টরেট ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয় ১৯৭৯ সালে। ২০০৪ সালে ভবনটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের আওতাভুক্ত করা হয়। ২ কোটি ৪১ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে ২০০৫ সালে সেখানে জাদুঘর স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ভবনের আগের নকশা অবিকল রেখে সংস্কার করা হয়েছে। নানা জটিলতার কারণে জাদুঘরের কাজ সম্পন্ন করতে ১০ বছর পেরিয়ে যায়।

অধিদফতরের সহকারী পরিচালক একেএম সাইফুর রহমান জানান, বরিশাল জাদুঘরের ৯টি গ্যালারিতে দেড় হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন স্থান পেয়েছে। এছাড় প্রায় ২`শ উপাদানের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রদর্শন করা হয়েছে। পাশাপাশি বরিশালসহ গোটা দেশের ভৌগোলিক, প্রাকৃতিক ও প্রাচীন প্রশাসনিক পরিচিতি তুলে ধরা হবে।

গ্যালারীতে উপস্থাপন করা হয়েছে বরিশাল কালেক্টরেট ভবনের ইতিহাস, স্থাপত্যিক বৈশিষ্টের সংক্ষিপ্ত বিবরণ, নির্মাণ উপকরণসহ বিভিন্ন ধরনের নির্দশন। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে কালেক্টরেট ভবনের পুরানো আসবাবপত্র, পাথরের তৈরি মূর্তি, বিভিন্ন পোড়ামাটির ফলকচিত্র, কারুকার্যখচিত ইট, উৎকীর্ণ লিপি, মুদ্রা ও বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্রসহ ঐতিহাসিতক নানা নিদর্শন রয়েছে।

গ্রীষ্মকালীন সময়ে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং শীতকালে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রবেশ ফি মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫টা টাকা ও প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ১০ টাকা। এছাড়া সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ২৫ টাকা এবং অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য ১০০ টাকা প্রবেশ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।  

সাইফ আমীন/এসএস/পিআর

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।