জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবাভাতা নিচ্ছেন স্ত্রী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০২:৪২ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিশেষ বরাদ্দে মৃত ব্যক্তির নাম বয়স্কভাতার তালিকায় এবং জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে দেয়া হচ্ছে বিধবাভাতা।

রোববার সরেজমিনে দেখতে গেলে ভাতাভোগীরা জানান, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতাভোগীর তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে এক হাজার থেকে তিন হাজার পর্যন্ত টাকা গুনতে হয়েছে ভাতাভোগীদের।

টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক অতিদরিদ্র বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও বিধবা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। আবার টাকা বিনিময়ে জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে বিধবাভাতা ও মৃত ব্যক্তিকেও ভাতার জন্য মনোনীত হয়েছেন।

আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের হতদরিদ্র, অতিদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বিশেষ বরাদ্দের আওতায় আনতে ৬ হাজার ৫২৬ জনকে মনোনীত করা হয়।

যার মধ্যে বয়স্ক ২ হাজার ২৬১ জন, বিধবা ২ হাজার ৭৩ জন ও প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য ২ হাজার ১৯২ জনকে নির্বাচন করা হয়। বয়স্ক ও বিধবারা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে ও প্রতিবন্ধীরা প্রতি মাসে ৬০০ টাকা হারে তিন মাস পর এ ভাতা পান।

সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া প্রত্যেক বিধবা ভাতাভোগীর কাছ থেকে এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নাম ভাঙিয়ে পরিষদের চৌকিদারকে দিয়ে এই টাকা আদায় করেন।

টাকার বিনিময়ে জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে তার প্রতিবেশী চাচি রাবেয়া বেগমকে বিধবাভাতার জন্য মনোনীত করেছেন।

শুধু রাবেয়া নন, ওই ইউনিয়নের বিধবাভাতা তালিকার ১নং ওয়ার্ডের তারামিনা বেগম, ৫নং ওয়ার্ডের ওশনা বেগম, জাহানুর বেগম, ছকিনা বেগমকে বিধবা হিসেবে বলা হলেও তারা স্বামীসহ বসবাস করছেন।

৯ নং ওয়ার্ডের হাছমা বেগম ও ৪ নং ওয়ার্ডের বাচ্চা বুড়ির নামে বিধবা ভাতা এবং তাদের স্বামীর নামে রয়েছে বয়স্ক ভাতা। সেই সঙ্গে বেশ কিছু মৃত ব্যক্তির নাম রয়েছে বয়স্কভাতার তালিকায়। এসব সুবিধাভোগীর তালিকা সমাজকর্মী আব্দুল ওহাব নিজেই তৈরি, যাচাই-বাছাই ও বই বিতরণ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহিষখোচা ইউনিয়নের কয়েকজন ভাতাভোগী জানান, টাকা ছাড়া ওহাবের সঙ্গে কথা বলাও যায় না। বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীকে চাহিদামতো টাকা দিয়ে নিতে হয়েছে বই। টাকার বিষয় কাউকে বললে নাম কেটে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

আত্মীয়তা ও টাকা গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে মহিষখোচা ইউনিয়ন সমাজকর্মী আব্দুল ওহাব জানান, অফিসারের সঙ্গে কথা বলে বাড়িতে কিছু বই বিতরণ করা হয়েছে। যাদের স্বামী জীবিত রয়েছে তাদের নাম বাদ হবে। ১৯ বছরের চাকরি জীবনের অর্থে আলিসান বাড়িটি তৈরি করেছেন বলেও দাবি তার।

মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল হামিজ বলেন, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় না করে ওহাব নিজেই এসব তালিকা করেছেন। তিনি ভুলেভরা তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত বঞ্চিতদের অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান।

আদিতমারী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, বাড়িতে বই বিতরণের কোনো নিয়ম নেই। ওই ইউনিয়নের বিষয়ে অনেকে অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি প্রশিক্ষণে ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফিরে এসে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কার্যক্রমের কোনো অনিয়ম দুর্নীতি মেনে নেয়া হবে না। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রবিউল হাসান/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।