স্বামী পরিত্যক্তাকে ধর্ষণ, সালিশে আসেনি ছাত্রলীগ নেতার বাবা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০১:৫২ পিএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

 

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) মো. সেলিম ওরফে সোয়েবের হাতে ধর্ষণের শিকার স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন।

শনিবার সালিশি বৈঠকে এ বিষয়ে সমাধান হওয়ার কথা থাকলেও অভিযুক্ত ছাত্রলীগের সভাপতি মো. সেলিম মিয়া ওরফে শেখ সোয়েব সালিশি বৈঠকে হাজির হননি।

একই সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতার বাবা হিরা মিয়া এ বিষয়টির মীমাংসা করতে রাজি নয় বলে জানিয়েছেন। বৈঠকের আয়োজক আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, স্বামী পরিত্যক্তা ওই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সোয়েব। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও সহযোগী শিপনের সহযোগিতায় তাকে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগ নেতা সোয়েব। সোয়েব যাওয়ার সময় ধর্ষণের কথা প্রকাশ করলে ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়।

পরে ওই নারী বারবার বিয়ের চাপ দিলেও বিয়েতে রাজি হয়নি সোয়েব। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

এ ঘটনার কয়েক দিন পরে সংবাদ সম্মেলন করেন দুইপক্ষ। এসব সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়। গত রোববার জেলা ছাত্রলীগের নির্দেশে দেলদুয়ার উপজেলা ছাত্রলীগ এক জরুরি বৈঠকে দল থেকে আটিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পদ থেকে সোয়েবকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

এ ঘটনার মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার বিয়ের দাবিতে শোয়েবের বাড়িতে অনশন করেন নির্যাতিত নারী। এ সময় তাকে মারধর ও তার কাছে থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া হয়।

খবর পেয়ে সোয়েবের বাড়িতে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করেন আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা। পরে সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাসে দুইপক্ষকে শনিবার ইউনিয়ন পরিষদে সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত দেন ইউপি চেয়ারম্যান।

এ প্রসঙ্গে আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক মিয়া বলেন, অভিযোগকারী নারী তার লোকজন নিয়ে বৈঠকে আসলেও অভিযুক্ত সোয়েবের বাড়ির লোকজন সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হয়নি। তারা সালিশ বৈঠকে বসতে রাজি নয় বলে তার বাবা হিরা মিয়া আমাকে জানিয়েছেন।

তবে কেন তারা বসলেন না বা কবে বসবেন তারও কোনো তারিখ দেননি বলে জানান তিনি। তাই বাধ্য হয়ে আমি ওই তরুণীকে ফিরিয়ে দিয়েছি। এরপরও যদি কোনো পক্ষ সমাধানের জন্য এগিয়ে আসেন তবে আমি তাদের সহযোগিতা করব।

এ বিষয়ে নির্যাতিত নারী বলেন, আমি সুষ্ঠু সমাধানের জন্য সোয়েবের বাড়ি গিয়েছিলাম। কিন্তু সে এবং তার বাড়ির লোকজন মিলে আমাকে লাঞ্ছিত করেছে। এমনকি আমার মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে। আমি টাকার কাছে সম্মান বিক্রি করতে চাই না। সোয়েব যে ক্ষতি করেছে আমার, আমি তার প্রাপ্য সম্মান চাই। শোয়েব আমাকে বিয়ে না করলে আমার আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া মাজার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক মেলায় স্বামী পরিত্যক্তা নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ছাত্রলীগ নেতা সোয়েব।

পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ও সহযোগী শিপনের সহযোগিতায় ওই নারীকে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগ নেতা সোয়েব। বারবার বিয়ের চাপ দিলেও বিয়েতে রাজি হয়নি সোয়েব।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। পরে আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।