চার মাসেও খোলেনি কলেজছাত্র মাসুম হত্যা রহস্য

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ১০:১৯ এএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র মাসুম সিকদারের হত্যার মূল রহস্যের জট প্রায় চার মাসেও খোলতে পারেনি পুলিশ।

ফলে এ ঘটনায় জড়িত এক আসামি উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার শর্তে জামিন পায়। বাকি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং মামলাটি নিষ্পত্তি করতে আপোস-মীমাংসার চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে মাসুমের পরিবার। সেই সঙ্গে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শঙ্কা আর আতঙ্কে রয়েছে পরিবারটি।

বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় গত ২ জুন মাসুম গুরুতর আহত হয়। পরে গত ৪ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। তিনি কালিহাতী উপজেলার বাড্ডা গ্রামের হজরত আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়,বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্ররা সোসাইটি অব বিটেক স্টুডেন্ট (এসবিএস) নামের ১ জুন একটি কমিটি গঠন করে। বিষয়টি জানাজানি হলে পরদিন শনিবার দুপুরে ১ম বর্ষ ও ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এতে ওই কমিটির সভাপতি ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী আশরাফুল এবং সাধারণ সম্পাদক মাসুম সিকদার আহত হয়। পরে তাদেরকে আহত অবস্থায় কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

কিন্তু মাসুম সিকদারের অবস্থার অবনতি হলে ওদিনই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে ৪ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এ ব্যাপারে আহত আশরাফুলের বাবা ঘটনার দিন রাতে বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিহাতী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কুতুব উদ্দিন জানান, আসামিরা সবাই ছাত্র। তারা বিভিন্ন জেলার থাকায় তাদের গ্রেফতার করার সম্ভব হচ্ছে না।

আপোস-মীমাংসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শুনেছি দুই পক্ষ গোপনে মীমাংসার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। তবে আমি আমার কার্যক্রম যথাযথভাবে চালিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৩য় বর্ষের এক ছাত্র বলেন, মাসুম হত্যার বিষয়টি ভিন্ন খাতে চলে যাচ্ছে। ফলে কলেজের ছাত্ররা ক্ষোভে ও আতঙ্কে রয়েছে।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।