ধর্ষকের সঙ্গে স্কুলছাত্রীর বিয়ে দিতে ৩ চেয়ারম্যানের কাণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০২:২৪ পিএম, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
ফাইল ছবি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার দুপুরে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় ধর্ষক রেজাউল করিমসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন।

এ ঘটনায় রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। সেই সঙ্গে ধর্ষকের সঙ্গে ওই স্কুলছাত্রীর বিয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগেছেন স্থানীয় তিন চেয়ারম্যান। ধর্ষক রেজাউল করিম উপজেলার ধুবলিয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার ধুবলিয়া গ্রামের স্কুল পড়ুয়া সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একই গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে রেজাউল করিম ধর্ষণ করেন।

এর আগে ওই শিক্ষার্থীকে প্রায় ৬ মাস আগ থেকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন ধর্ষক। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে মোবাইলে ওই শিক্ষার্থীকে বাড়ির বাইরে আসতে বলেন। পরে বাড়ির পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন।

এ সময় মেয়েটি চিৎকার করলে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ধর্ষককে আটক করেন। পরে ধর্ষকের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধর্ষককে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

পরে ধর্ষণের বিষয়টি স্থানীয় ফলদা ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদুকে জানানো হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই ইউপি চেয়ারম্যান তার বাড়িতে গাবসারা ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির ও ঘাটাইল উপজেলার লোকেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম শরিফসহ এলাকার গণ্যমান্যব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশের আয়োজন করেন। পরবর্তীতে ওই ছাত্রীর পরিবারকে থানায় মামলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেন।

নির্যাতিত ছাত্রীর বাবা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় তিন ইউপি চেয়ারম্যান সালিশের আয়োজন করেন। সালিশে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা না করার জন্য ধর্ষকসহ তার পরিবার নানাভাবে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে ভূঞাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম কাউছার চৌধুরী জানান, ধর্ষণের ঘটনায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষকসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় চেয়ারম্যানরা সালিশের আয়োজন করেছিল বলে বাদী মামলায় উল্লেখ করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান ওসি।

আরিফ উর রহমান টগর/এএম/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।