এক কচ্ছপ নিয়ে হুলুস্থুল কাণ্ড

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর
প্রকাশিত: ১১:৩৭ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০১৭

২৫ কেজি ওজনের এক দুর্লভ প্রজাতির কচ্ছপ ধরা পড়েছে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক রামসাগর দীঘিতে। শনিবার সন্ধ্যায় কচ্ছপটি সৌখিন মাছ শিকারির বড়শিতে আটকা পড়ে। ওই মাছ শিকারির নাম সাজু। তিনি সদর উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা প্রশাসনের আহ্বানে ৩ হাজার টাকায় টিকিট কেটে সৌখিন মাছ শিকারিরা বড়শি ফেলে মাছ শিকার করেন রামসাগর দীঘিতে।

গত শনিবার সন্ধ্যার কথা। সাজু নামে একজনের বড়শির সুতায় টান পড়ে। বড়শিতে হাত দিয়েই সাজু টের পান বিরাট কিছু ধরা পড়েছে। হুইলে সুতা টানতে থাকেন তিনি। ততক্ষণে আশপাশের লোকজনও তাদের বড়শি ছেড়ে সাজুর পাশে ভিড় জমায়। অনেক চেষ্টার পর সেই ‘বিরাট কিছু’ যখন পাড়ের কাছে এল, তখন দেখা গেল মাছ নয়, মস্ত বড় এক কচ্ছপ ধরা পড়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, সাজু অভিজ্ঞ শিকারি। নিমেষে তিনি বুঝে যান, এটা সাধারণ কচ্ছপ নয়। তাই দেরি না করে কচ্ছপটি মোটরসাইকেলে তুলে চলে যান।

পরে এ খবর পৌঁছে যায় রামসাগর জাতীয় উদ্যানের ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছে। তারা নানা চেষ্টা-তদবির করে অবশেষে প্রায় সাড়ে ২৪ কোজি ওজনের কচ্ছপ উদ্ধার করেছে।

এমনকি জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সাহায্যও নিতে হয়েছে তাদের। পার্ক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই জানা গেল, ধরা পড়া কচ্ছপটি ‘বাটাগুড় বাসকা’ প্রজাতির। এদেশে এটি বিলুপ্তপ্রায়।

জানা গেছে, সাজুর বাড়ি দিনাজপুর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর গ্রামে। ওই পার্কের কিউরেটর এ এম আব্দুস সালাম তুহিন জানান, জেলা প্রশাসনের আহ্বানে তিন হাজার টাকায় টিকিট কেটে সৌখিন মৎস্য শিকারিরা বড়শি ফেলে মাছ ধরছিল দীঘিতে।

শনিবার সন্ধ্যায় সাজুর বড়শিতে কচ্ছপটি ধরা পড়ে। সেটি পাড়ে তুলেই মোটরসাইকেলে করে দীঘি এলাকা ত্যাগ করেন সাজু। দ্রুত খবর চলে আসে রামসাগর জাতীয় উদ্যানের ন্যাশনাল পার্কে।

তিনি আরও জানান, খবর পাওয়ার পর তিনি দ্রুত কচ্ছপটি উদ্ধারে উদ্যোগ নেন। তাৎক্ষণিক বিষয়টি জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে জানান। এরপর সাজুর ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে কচ্ছপটি ফেরত দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে তাকে ফোন করা হয়। জানানো হয়, বন্য প্রাণী আইনে কচ্ছপ ধরা, আটক রাখা ও বিপণন দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু সাজু জানান, কচ্ছপটি আর তার কাছে নেই। বিক্রি হয়ে গেছে।

ততক্ষণে বগুড়া অঞ্চলের বন সংরক্ষক ও দিনাজপুর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছেও খবর পৌঁছে যায়। তারাও কচ্ছপ উদ্ধারে নির্দেশনা দেন।

সব জানিয়ে দিনাজপুর জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়। তারাও দ্রুত এগিয়ে আসে। একপর্যায়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশের ওসি রেদোওয়ানুর রহিমের নির্দেশে পুলিশের একটি টিম সাজুর বাড়ি ঘেরাও করে।

এ অবস্থায় সাজু জানান, শহরের বড়বন্দর এলাকার এক হিন্দু মাছ ব্যবসায়ীর কাছে তিনি ১৬ হাজার ৬০০ টাকায় কচ্ছপটি বিক্রি করে দিয়েছেন। বিক্রির সময় সেটির ওজন ছিল ২৪ কেজি ২০০ গ্রাম। পুলিশের তত্পরতায় শেষ পর্যন্ত শনিবার রাতেই কচ্ছপটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সেটিকে ফের রামসাগর দীঘির পানিতে ছেড়ে দেয়া হয়।

রামসাগর জাতীয় উদ্যানের ন্যাশনাল পার্কের কিউরেটর এএম আব্দুস সালাম তুহিন জানান, যেহেতু একটি কচ্ছপের সন্ধান মিলেছে সেহেতু আরও অনেক বড় কচ্ছপ আছে রাম সাগর দীঘীতে। এসব কচ্ছপ নিয়মিত ডিম দিয়ে থাকে। বাচ্ছাও ফোটায়।

এমদাদুল হক মিলন/এএম/আরআইপি

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।