শহীদ জিয়া কলেজে তালা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ১০:২৫ এএম, ১৯ নভেম্বর ২০১৭

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার শিক্ষকদের দ্বন্দ্বের কারণে শহীদ জিয়া মডেল কলেজের আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী আসন্ন এইচএসসি নির্বাচনি পরীক্ষার অংশ নিতে পারেনি।

পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করেই গতকাল শনিবার সকালে কলেজের বরখাস্তকৃত অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দীন কলেজে বন্ধের নোটিশ দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এ নিয়ে কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌস রোববার গাবতলী থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহীদ জিয়া মডেল ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা কমিটি ও অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুইদল শিক্ষককদের মধ্য বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে কলেজ শিক্ষকদের মধ্যে মারামারিসহ মামলার ঘটনাও ঘটেছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ১২ নভেম্বর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌসের সভাপতিত্বে এক সভায় ১৮ নভেম্বর (শনিবার) থেকে আসন্ন এইচএসসির নির্বাচনী পরীক্ষার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুসারে কলেজের প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীরা শনিবার পরীক্ষা দিতে এসে সকাল ১০টায় কলেজের সকল কক্ষে তালা দেখতে পায়। সেই সঙ্গে তারা দেখতে পায়, কলেজের দেয়ালে ১৮ নভেম্বরের স্বাক্ষরিত একটি নোটিশে অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দীন কোনো কারণ ছাড়াই কলেজ বন্ধ দিয়ে সকল কক্ষ তালাবন্ধ করে রাখেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, অনিবার্য কারণে দুইদিন কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হল। আগামী ৩০ নভেম্বর সোমবার থেকে নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষার্থীরা এই নোটিশ ও সকল কক্ষে তালাবন্ধ দেখে হতভম্ব হয়ে যায় এবং তাদের মধ্য ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে তারা কলেজ চত্বরে পরীক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌসসহ অন্যান্য শিক্ষকরা সকালে কলেজে এসে এই অবস্থা দেখতে পায়।

এ বিষয়ে গাবতলী শহীদ জিয়া মডেল ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, কলেজের সভাপতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আযম খান সাবেক অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দীনকে বরখাস্ত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে মাহাতাব উদ্দীন বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ে তিনি এখনও শহীদ জিয়া মডেল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ। তার স্বাক্ষরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উত্তোলন হচ্ছে। দুইদিনের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এটি করার এখতিয়ার রয়েছে তার।

গাবতলী থানা পুলিশের ডিউটি অফিসার এএসআই সফিউল ইসলাম জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দেয়া একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আযম খান বলেন, নানা অনিয়ম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে বরাখাস্ত করা হয়েছে। এখন তিনি জোর করে পদে থাকার চেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, গত ১ নভেম্বর গাবতলী শহীদ জিয়া মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ও দুই শিক্ষককে হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়। দলবল নিয়ে কলেজে ঢুকে এ হামলা চালান উপজেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এটিএম নুরুল হুদা ওরফে সুমন।

অধ্যক্ষকে মারধরের দৃশ্য দেখে মোটরসাইকেলযোগে পালাতে গেলে পথ আটকিয়ে হাতুড়িপেটা করা হয় দুই শিক্ষককে। তার হলেন- ভূগোল বিভাগের প্রভাষক মঞ্জুরুল ইসলাম এবং রসায়ন বিভাগের প্রভাষক রেজাউল হক।

এএম/আইআই

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।