সড়কের কাজ ফেলে পালালেন ঠিকাদার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি নীলফামারী
প্রকাশিত: ১১:৪৫ এএম, ২৬ নভেম্বর ২০১৭

ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কাজ সম্পন্ন না করে পালিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জরাজীর্ণ সড়কে এখন বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

দীর্ঘদিন মেরামতের অভাবে বেহাল দশা দেখা দিয়েছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ভাদুরদরগাঁ হয়ে ডিমলা উপজেলা শহরের বাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার আঞ্চলিক প্রধান সড়কের।

এতে ওই সড়কে চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বাসযাত্রী এবং অন্যান্য যানবাহনের চালকরা। এখানে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এখন অটোবাইক।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে টেন্ডারের মাধ্যমে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই আঞ্চলিক সড়কটি মেরামতের কাজ পেয়েছিল মেসার্স মাসুমা বেগম এন্টারপ্রাইজ। কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যাওয়ায় ওই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ৪৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রমতে, সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ২০১৫ সালের ১০ ডিসেম্বর রংপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাসুমা বেগমকে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৬ সালের জুনে। কিন্তু কাজের পরিধি বাড়ায় বরাদ্দ বাড়িয়ে ৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা করে কাজটি সম্পাদনের জন্য সময়সীমা দেয়া হয় চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি টুনিরহাট হতে ডিমলা উপজেলা পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত ১২ ফিট প্রস্থ্যের ৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ সমাপ্ত করে। কিন্তু, হঠাৎ করে কোনো কিছু না জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এখন বাকি ১০ কিলোমিটার ভাদুরদরগা পর্যন্ত ১৮ ফিট প্রস্থ্যের সড়কটি আর কাজ শুরু করা হয়নি। ফলে নাজেহাল অবস্থা পড়ে আছে সড়কটি। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবহন। প্রতিদিন ঘটছে ছোট বড় নানা দুর্ঘটনা।

স্থানীয়রা জানায়, রংপুর ডিমলার প্রধান রাস্তার কারণে বাধ্য হয়ে ২০ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প রাস্তায় যেতে হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ ছেড়ে পালিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, গর্ভবতী কোনো নারীকে নিয়ে রংপুরে সিজার করার জন্য এই রাস্তা দিয়ে গেলে ডাক্তারকে টাকা দিতে হবে না। রাস্তায় সন্তান প্রসব হয়ে যাবে।

নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে গেছে। ফলে সড়কটিতে আরও খানাখন্দ তৈরি হয়ে বেহাল দশায় পড়েছে। এ ঘটনায় ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৪৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নতুন করে টেন্ডার (দরপত্র) আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।

জাহেদুল ইসলাম/এএম/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :