মেয়ে সুন্দর, ভয়ে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে দিলেন বাবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ১১:৩৬ এএম, ২৭ নভেম্বর ২০১৭

কিশোরী গৃহবধূ কাজলী। শ্বশুরবাড়ি থেকে এসে পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছে সে। কৈশোর না পেরোতেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হলো তাকে।

যখন সে পরীক্ষা শেষে বাড়ি এসে সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে পুতুল খেলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ার কথা, তখন তাকে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্বামী-সংসার নিয়ে যান্ত্রিক জীবনের বোঝা টানতে হচ্ছে।

সত্যিই কী সে সংসার নামক এ বোঝা টানতে পারবে। নাকি সংসার নামক যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে আমাদের দেখিয়ে দেবে বাল্যবিয়ে নামক এক অভিশাপের ভয়াবহতা।

বগুড়ার শেরপুরে কোনোকিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না বাল্যবিয়ে। ফলে বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে অনেক কিশোরীর জীবন হয়ে পড়ছে অনিশ্চিত।

এসব বাল্যবিয়ের কারণ সম্পর্কে অনুসন্ধানে জানা যাচ্ছে, দরিদ্রতা ও সামাজিক নিরাপত্তাই মূল কারণ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ও শহরতলিতে বাল্যবিয়ের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

এমনই একটি বাল্যবিয়ের শিকার বাগড়া গ্রামের হাবিবুর রহমান হবির মেয়ে কাজলী আক্তার। সে বাগড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এবারের পিইসি পরীক্ষা দেয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষার বেশ কয়েক দিন পূর্ব থেকে স্কুলে অনুপস্থিত দেখে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল হালিম খোকন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ওই ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গেছে।

পরে তিনি নিজ উদ্যোগে পরীক্ষা দেয়ার জন্য ওই ছাত্রীর শ্বশুর শাহাদতকে অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি তাতে রাজি না হলে পরে বিভিন্ন ব্যক্তি দিয়ে বুঝিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাজলী আক্তার দেখতে সুন্দর ও পিতা-মাতা অভাবী হওয়ায় তাকে দ্রুত বিয়ে দেয়া হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর আমইন গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে আব্দুল আলীমের সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে মেয়ের বাবা অটোচালক হাবিবুর রহমান হবি বলেন, আমি গরিব মানুষ। মেয়ে দেখতে সুন্দর হওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসছিল, ছেলেটি পছন্দ হওয়ায় বিয়ে দিয়েছি।

এত অল্প বয়সে বিয়ে দিলেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের যে সামাজিক অবস্থা কখন কী হয়ে যায় বলা মুশকিল। এছাড়া মেয়েটি সুন্দর। একবার কোনো অঘটন ঘটলে বিয়ে দেয়া কঠিন হয়ে যাবে। তাই ভয়ে বিয়ে দিলাম।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমরা সব সময় বাল্যবিয়ের কুফল সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করার চেষ্টা করি। তার পরেও যারা এই কাজ করছেন জানতে পারলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নিই। কিন্তু এমন গোপনভাবে দু’একটি বিয়ে দেয়া হচ্ছে। তাই রোধ করা যাচ্ছে না।

এএম/আইআই

আপনার মতামত লিখুন :