মেয়ে-জামাইদের নির্যাতনে অসহায় এক বাবা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ১১:৫৪ এএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ১১:৫৮ এএম, ২৯ নভেম্বর ২০১৭
মেয়ে-জামাইদের নির্যাতনে অসহায় এক বাবা

পাবনায় ছোরওয়ার হোসেন নামে অবসরপ্রাপ্ত এক ব্যাংক কর্মকর্তা নিজের চার মেয়ে ও জামাইদের নির্যাতনের শিকার হয়ে অসহায় দিন যাপন করছেন। ২০১৫ সালে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে শহরের রাধানগর পি আই রোডের বাড়িতে নিঃসঙ্গ দিন কাটাচ্ছেন তিনি। এরই মধ্যে তিনি চার মেয়ের নামে নিজ নামীয় বসতবাড়ি ও পৈত্রিক বাড়িসহ ফসলি জমি দলিল করে দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও সস্তুষ্ট নয় নিজ ঔরশজাত সন্তানরা। এখন বাকি যে সম্পত্তি আছে তাও নিয়ে তাকে নিস্ব করে বসতবাড়ি থেকে বিতাড়িত করে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

এছাড়াও ছোরওয়ার হোসেনের নিজ নামে লাইসেন্স করা একটি ২.২ বোর রাইফেল এক জামাই হস্তগত করেছেন। এখন বাকি সম্পত্তি পাওয়ার জন্য মেয়ে ও জামাইরা তাকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকিসহ মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করছেন। উপায়ান্তর না পেয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা সোরওয়ার হোসেন পাবনা সদর থানায় একটি জিডি করেছেন।

জিডির বরাত দিয়ে পাবনা সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বেদার উদ্দিন জানান, পাবনা শহরের রাধানগর পিআই রোডস্থ মৃত মকিম উদ্দিন খানের ছেলে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক (অব.) আলহাজ্ব মো. ছোরওয়ার হোসেন ওরফে সারওয়ার (৭৩) ২০০১ সালে জনতা ব্যাংক লিমিটেড পাবনা হতে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি পাঁচ কন্যার জনক। তার স্ত্রী মাহমুদা বেগম সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে শরীরচর্চা বিভাগে শিক্ষিক হিসেবে কর্মরত থেকে অবসর গ্রহণের পর ২০১৫ সালের ৭ মার্চ ইন্তেকাল করেন। তখন থেকে তিনি একা হয়ে যান। তার পাঁচ কন্যা শিক্ষিত এবং সবাই বিবাহিত। তারা ঢাকা ও দেশের বাইরে স্বামীর সঙ্গে সংসার করেন। জামাইদের মধ্যে একজন সেনাবাহিনীর মেজর ছিলেন, একজন ইঞ্জিনিয়ার, একজন ডাক্তার এবং বাকিরা দেশের বাইরে থাকেন।

স্ত্রী মারা যাওয়ার কারণে ছোরওয়ার হোসেন রাধানগর পিআই রোডের বাড়িতে নিঃসঙ্গ দিন কাটান। অসুস্থ হলে তাকে দেখার কেউ নেই। এজন্য তিনি ৬-৮-২০১৭ তারিখে একজন বিধবা ও শিক্ষিত মেয়েকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কিন্ত এ বিয়ে মেনে নিতে পারেন না তার মেয়ে এবং জামাইরা। বিয়ের খবর পেয়ে মেয়েরা তার বাড়িতে এসে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিতে তার ওপর চাপ প্রয়োগ ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দিতে থাকেন মেয়ে জামাইরা। মেয়েদের এরূপ নির্যাতনের এক পর্যায়ে গত ১৮-১০-১৭ তারিখে ছোরওয়ার হোসেন মোছা. শারমীন সারওয়ার, মোছা. শুচি তমালিকা সারওয়ার, মোছা. শুভ্রা তাজনুভা সারওয়ারসহ তিন মেয়ের বিরুদ্ধে মাসসিক নির্যাতন ও হুমকির অভিযোগ করে নিরাপত্তা চেয়ে জিডি দায়ের করলে থানা কর্তৃপক্ষ জিডি নথিভুক্ত করে। এরপর মেয়েরাও থানায় এসে বাবার নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে একটি হয়রানিমূলক জিডি করেন।

জিডির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বেদার উদ্দিন আরও জানান, থানায় জিডির পর পুলিশ উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসে। এতে মেয়েরা দাবি করেন- তাদের বাবা যে মেয়েকে বিয়ে করেছেন সে তাদের মা হওয়ার যোগ্য নয়। এজন্য তাকে ওই বাড়িতে উঠানো যাবে না। এতে ছোরওয়ার হোসেন মেনে নিয়ে বলেন, তিনি ওই মেয়েকে নিজ বাড়িতে তুলবেন না। এরপর মেয়েরা জিডি প্রত্যাহার করেন। কিন্ত কিছু দিন পরে ছোরওয়ার হোসেন থানায় এসে বলেন- আমি এখনি এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারছি না। এ বলে তিনি ২য় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন। যার কারণে সমস্যার সমাধান এখনো হয়নি।

অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ছোরওয়ার হোসেন বলেন, আমি শেষ বয়সে একটু শান্তিতে বেঁচে থাকতে চাই কিন্ত মেয়ে ও জামাইরা থাকতে দিচ্ছে না। আমার পাশে দাঁড়াতে মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

একে জামান/আরএআর/এমএস