রায়পুরায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ, আহত শতাধিক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নরসিংদী
প্রকাশিত: ০৫:১৬ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

নরসিংদীর রায়পুরার দুর্গম চরাঞ্চল বাশঁগাড়ীতে দুইদল গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী টেঁটাযুদ্ধ সংঘঠিত হয়েছে। প্রতিপক্ষের হামলায় প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘর ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়ছে।

ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। হামলা পাল্টা হামলায় উভয়পক্ষের প্রায় শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। প্রতিপক্ষের তোপের মুখে গ্রাম ছেড়েছেন প্রায় ৫ শতাধিক লোক। এলাকার আধিপত্য ও তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে আওয়ামী লীগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে সপ্তাহজুড়ে এ হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় মামলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রায়পুার বাশঁগাড়ী ইউপি নির্বাচনের জয় পরাজয় ও এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যন সায়েদ সরকারের সঙ্গে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম হকের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে গত দুই বছরে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ওইসব ঘটনায় সায়েদ সরকারের ১৪ সমর্থক ও সিরাজুল চেয়ারম্যানের এক সমর্থকসহ উভয়পক্ষের প্রায় ১৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫ শতাধিক লোক। তারপরও থেমে নেই দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ।

এক পক্ষের নেতা বর্তমান চেয়ারম্যান সিরজুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সত্য নয়। তবে কিছু লোক গ্রামের বাইরে ছিল। তারা গ্রামে ফিরে আসার জন্য চেষ্টা করলে সায়েদ সমর্থরা বাধা দেয়। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

অপর পক্ষের নেতা সায়েদ সরকার কারাগারে থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

রায়পুরা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি দেলোয়ার হোসেন বলেন, সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে বাশঁগাড়ীর লোকজন বেপরোয়া। রাতে বলে আসলে সকালে ভুলে যায়।

সঞ্জিত সাহা/এমএএস/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :