একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের ২৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি বাগেরহাট
প্রকাশিত: ০৮:৪৬ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট: ০৮:৪৯ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০১৮

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক ‘একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের বাগেরহাটের মংলা উপজেলার সাবেক সমন্বয়কারী জুলেখা বিবির বিরুদ্ধে সাড়ে ২৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে জুলেখা বিবির বিরুদ্ধে প্রকল্পের বর্তমান দায়িত্বে থাকা মংলা সমন্বয়কারী মো. কামরুজ্জামান ঢাকার কেন্দ্রীয় প্রকল্প পরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এ অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে মংলা প্রকল্পের সিও (কম্পিউটার অপারেটর) অর্চনা গুপ্ত ও চাঁদপাই ইউনিয়ন মাঠ-সহকারী মো. শহিদুল ইসলাম জড়িত রয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মংলার বর্তমান সমন্বয়কারী মো. কামরুজ্জামান জানান, প্রকল্পের সাবেক উপজেলা সমন্বয়কারী জুলেখা বিবি ২০১১ সালের ১৯ নভেম্বর মংলায় যোগদান করে ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত চাকরি করাকালীন সময় নানা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

এ প্রকল্পের ৫৪টি সমিতির পাস বইয়ের টাকা মাঠ-সহকারীরা বিভিন্ন সময় তাদের প্রকল্প সমন্বয়কারী জুলেখা বিবির অফিসের যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা করেন। কিন্তু মাঠ-সহকারীদের কাছে ওই জমা টাকার চালান থাকলেও সদস্যদের নামে সঞ্চয় ও কিস্তিতে তা পোস্টিং করা হয়নি। এতে মাঠ-কর্মীরা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে ব্যাপক সমস্যায় পড়েন।

জুলেখা বিবি সমিতির সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণের সময় জন প্রতি ১০ হাজারের জন্য ১০০/২০০ টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করেন। উৎকোচ দিতে অপরগতা বা প্রতিবাদ করলে তার লোন বন্ধ হয়ে যেত।

এছাড়া এ কর্মকর্তা তার ৩ ইউনিয়নের ৬ জন ম্যানেজারের ভাতা বাবদ ৬০ হাজার টাকা নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময় অফিসের ২২ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮০ টাকা তার নিজ অ্যাকাউন্টে (সোনালী ব্যাংক, হিসাব নং- ২৯১০৩৪০৬৯২৯৪-এ) জমা করেন। পরে সুবিধা অনুযায়ী ২২ লাখ ৭ হাজার ৭৪৩ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন।

এছাড়াও জুলেখা বিবি নিজে বাড়ি কেনার নামে তার অফিসের মাঠ-সহকারী সুদেব গাইনের কাছ থেকে ৫০ হাজার ও শীলা রানীর কাছ থেকে ৯৪ হাজার টাকা ধার হিসেবে নিয়ে ওই টাকা আর ফেরত দেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সর্বত্র জানাজানি হওয়ার আগেই জুলেখা বিবি চলতি বছরের ৩১ জুলাই মংলা থেকে খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলায় বদলি হয়ে যান।

এ বিষয়ে জুলেখা বিবি জানান, ৩ মাসের ছুটিতে তিনি দেশের বাইরে থাকাকালে হিসাবের এ গড়মিল হয়। বিষয়টি তিনি ওই সময় মংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেছিলেন বলেও দাবি করেন।

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. আকবর হোসেন জানান, অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারের টাকা আত্মসাৎ করে কেউ পার পাবে না।

শওকত আলী বাবু/এএম/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :